সিলেট মহানগরের রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় বুধবার সকালে তিনজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ গ্রেপ্তার করা এক অভিযুক্তের দেখানো স্থান থেকে ছোরা উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে অস্তিত্বগত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে গ্রেপ্তার হওয়া বাবুল মিয়া (৪০) নামের সন্দেহভাজন তার দেখানো স্থানে পুলিশকে নিয়ে গিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধারের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশের বক্তব্য।
সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম একথা সংবাদকর্মীদের জানান যে মামলার অভিযুক্ত ও নিহত গৃহকর্মীকে পূর্বপরিচয় ও প্রেমসম্পর্ক ছিল। কমিশনার বলেন,
“গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের পূর্বপরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিনি ওই বাসায় গেলে তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করান। পরে তাদের মধ্যে বিবাদ হয় এবং একপর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন।”
ঘটনার বিবরণ ও ধারাবাহিকতা
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে তিনজনের অত্যন্ত নির্যাতন করা গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—
- মো. আব্দুস সাত্তার (৮২) — বাসার মালিক
- সুরাইয়া বেগম (৭৬) — তাঁর স্ত্রী
- তাহমিনা (২৫) — গৃহপরিচারিকা
পুলিশ কমিশনার আরও জানিয়েছেন, তাহমিনাকে আঘাত করার সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয় এবং পরে আব্দুস সাত্তারও ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির সময় আহত হন এবং পরে তাকে أيضاً ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার পর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে গেলে পরবর্তীতে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনি থেকে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তের প্রধান অগ্রগতি
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানায়, এই ছোরা ছাড়াও ঘটনাস্থল ও অভিযুক্তের কাছ থেকে সংগ্রহিত অন্যান্য আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, আলামত পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের ফলে ঘটনার সঠিক কুকর্মপ্রণালী ও দায়ীদের শনাক্তে আরও স্পষ্টতা আসবে।
অপরাধ তদন্ত অনুষদ এবং স্থানীয় থানা ক্রাইম সিন হিসেবে পুরো ঘরটি সংরক্ষণ করে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে আর কী ধরনের বিষয় জড়িত আছে—যেমন আর্থিক বিবাদ, পূর্বশত্রুতা অথবা চক্রান্ত—তাও যাচাই করছে বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
স্থানীয় পরিবেশ ও জনগণের প্রতিক্রিয়া
রায়নগর আবাসিক এলাকার এই হত্যাকাণ্ডের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলেন, প্রতিবেদনের সূত্র থেকে জানা যায়—নিহতদের বয়স ও পারিবারিক পরিচয় জানার পর এলাকাবাসী ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সিলেট মহানগর পুলিশ শহরের নিরাপত্তা জোরদারের কথাও জানিয়েছে।
পুলিশের পরবর্তী করণীয়
পুলিশ বলেছে—
- উদ্ধার করা ছোরা ও অন্যান্য আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
- জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যমতে আরও সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
- ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী হত্যার প্রকৃতি নির্ধারণ করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হবে।
| পদবী/সম্পর্ক | নাম | বয়স |
|---|---|---|
| বসিন্দা (বাবাস) | মো. আব্দুস সাত্তার | ৮২ |
| স্ত্রী | সুরাইয়া বেগম | ৭৬ |
| গৃহপরিচারিকা | তাহমিনা | ২৫ |
তদন্তকারীরা দ্রুত ফলাফল সুনিশ্চিত করতে অভিক্ষেপ নথি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোন রেকর্ড ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করতেও বলছেন।
ঘটনাস্থল ও অভিযুক্তের আশপাশে নাবালক বা অন্য কেউ প্রতিবেদন সূত্রে জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রকাশ করে আরও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি; তবে তদন্ত চলমান আছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিবরণ আপডেট করা হবে।
এই ঘটনার সমগ্র তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশকে। স্থানীয় মানুষ ও শাস্তি-পন্থী সিস্টেম—উভয়ই স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছে।