কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বারবান্দা গ্রামে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে এক রক্তাক্ত ঘটনায় এক নারী নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহতের নাম সোনা বানু (৪৫), অভিযোগভুক্ত ভাতিজার নাম ফারুক হোসেন (৪০).
ঘটনার বিবরণ
রৌমারী থানার ওসি কাওছার আলী জানিয়েছেন, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ফারুক তার ছেলে টিটু ও মাকে একটি ঘরে আটকে রেখে তাদের নেশার টাকার জন্য জিম্মি করেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের মুক্ত করার চেষ্টা করলে ফারুক ঘর থেকে একটি শাবল নিয়ে বের হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।
“স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ফারুককে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে গেলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার নামও মামলায় যুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।
আহত ও তাদের অবস্থার তথ্য
আহত তিনজনকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছড় রয়েছে:
- মমিনা খাতুন (৩০) — ফারুকের ছোট বোন
- জোসনা খাতুন (২৬) — ফারুকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী
- খলিলুর রহমান (৫৫) — ফারুকের চাচা
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ আহমেদ ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, ফারুকের ও তার চাচার বাড়ির উঠান পাশাপাশি; তাই তাদের মাঝে পুরনো যে কোনও ঝগড়া দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেবে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দিন ধরে ফারুক বৈকল্যপূর্ণ আচরণ করছিল—কখনো মায়ের কাছে মাদক কেনার টাকা চাইতেন, আবার জমির দলিল নিয়ে বিবাদ করত।
প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা বলছেন, পরস্পরের সম্পত্তি ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরেই সম্প্রতি ভাঙাচোড়া বাড়ছিল। তবে পুলিশের তথ্যে ফারুকের আচরণ কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক ছিল; এতে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা উদ্বিগ্ন ছিলেন।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, হামলার সময় ফারুক ব্যাপক রাগে ছিল এবং সে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে শাবল নিয়ে হামলা চালিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারক্ষেপ নিয়ে তাকে আটকে রাখে এবং পুলিশে দেন। নিহত সোনা বানুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
আইনি কর্মকাণ্ড
ওসি কাওছার আলী জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারকে খবর দিয়ে পরিবারের দাবী এবং প্রাথমিক জবরদস্তি বিবেচনায় মামলা রেকর্ড করা হচ্ছে। তদন্তে পরিবারের অন্য সদস্য বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের নামেও মামলা যুক্ত করা হবে।
আচরণগত বিরূপতা ও স্থানীয় উদ্বেগ
প্রতিবেশীরা জানান, ফারুক কয়েকদিন ধরে মানসিক অস্বাভাবিকতা ও মাদক-সংক্রান্ত আচরণ দেখাচ্ছিলেন। তারা ভ্রাম্যমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইউপি সদস্য ফিরোজ আহমেদ স্থানীয় পর্যায়ে কাউন্সেলিং বা চিকিৎসা সেবা প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | বারবান্দা গ্রাম, রৌমারী উপজেলা, কুড়িগ্রাম |
| নিহত | সোনা বানু (৪৫) |
| আক্রান্ত (আহত) | মমিনা খাতুন (৩০), জোসনা খাতুন (২৬), খলিলুর রহমান (৫৫) |
| অভিযুক্ত | ফারুক হোসেন (৪০) — ভাতিজা; স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দিয়েছেন |
উপজেলা ও থানা পুলিশ ঘটনার তদন্তে তৎপর আছে এবং ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রয়োজনীয়তা থাকলে তা অনুসরণ করা হবে। স্থানীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে আশ্বাস এসেছে যে, ঘটনা সম্পর্কে তথ্য একান্ত নিরপেক্ষ ও দ্রুততার সঙ্গে জনগণকে জানানো হবে।
এই ঘটনার সামাজিক প্রভাব ও পূর্বশর্তগুলো অনুসন্ধান করে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য সেবা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।