অর্থনীতি কুড়িগ্রাম কুড়িগ্রাম (28)

কুড়িগ্রামে সার সমস্যায় কৃষক উদ্বিগ্ন, প্রশাসন বলছে কৃত্রিম সংকট

চলতি আমন মৌসুমে মাঠ পর্যায়ে চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম থাকায় কুড়িগ্রামের কৃষকেরা হতাশ। প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে এটি বাড়তি চাহিদা ও অনুকূলবহ রাখার অভাবজনিত কৃত্রিম সংকট।

কুড়িগ্রামে সার সমস্যায় কৃষক উদ্বিগ্ন, প্রশাসন বলছে কৃত্রিম সংকট
©অলংকরণ নাজনীন সুলতানা / we-news.com

কুড়িগ্রামে চলতি আমন মৌসুমে মাঠ পর্যায়ে সার সরবরাহের অভাব নিয়ে কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষক, ডিলার ও সারব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী বরাদ্দ বাড়ানো না হলে সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। অপরদিকে স্থানীয় প্রশাসন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা এটিকে কৃত্রিম সংকট আর বাড়তি চাহিদার ফল বলে উভয়ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

ক্ষেতের বাস্তবতা ও প্রশাসনের ব্যাখ্যা

কুড়িগ্রাম থেকে পাঠানো প্রতিবেদন ও স্থানীয় কৃষকদের তথ্যে জানা গেছে, অঞ্চলভিত্তিক যে সরবরাহ করা হত তার কোনটি পরিবর্তন না করে পুরোনো ছকেই বরাদ্দ ও বিতরণ চলছে। ফলে চলতি ফসলের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সারের যোগান মেলছে না — কৃষকদের অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্য হয়ে কৃষকগণ বাজার থেকে সার ক্রয় করতে গিয়ে লুটপাট বা অতিমুল্য দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুড়িগ্রামের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,

“সারের কোনো সংকট নেই। যেটা দেখা যাচ্ছে, এটা কৃষকদের বাড়তি চাহিদা। ... এটি আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যেই স্থিতিশীল হবে।”
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় ধানক্ষেত শুকিয়ে চারা ঝিমিয়ে পড়ায় কৃষকরা বাড়তি সার প্রয়োগের চিন্তা করছেন এবং অনেকে আগাম আলু ও ভুট্টা চাষের জন্যও সার সংগ্রহ করছেন; তাও বাড়তি চাহিদার সূত্রপাত করেছে।

কৃষকের দাবি ও আশঙ্কা

কৃষকদের এবং সরবরাহকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী সমস্যা কেবল কৃষকের চাহিদিতে সীমাবদ্ধ নয়; সারের বরাদ্দ বাড়েনি অথচ আবাদক্ষেত বাড়ায় চাহিদা বেড়েছে। সচেতন কৃষক ও গবেষকরা বলছেন, একই জমিতে একাধিকবার ফসল হওয়ার প্রবণতা ও সেচ-চাষের পরিবর্তন, পাশাপাশি দেশজুড়ে মৎস্যচাষ বৃদ্ধির কারণে সারপ্রয়োজনে বৃদ্ধি ঘটেছে। কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও উলিপুর উন্নয়ন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী সংসদে এই সমস্যার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

  • ফসল সচল রাখার চাপ — বৃষ্টির অনুপস্থিতিতে চারা ঝিমিয়ে পড়ায় কৃষকরা দ্রুত কার্যকর করতে প্রয়োজনে বাড়তি সার খোঁজ করছেন।
  • অতিরিক্ত চাহিদা — আগাম আলু, ভুট্টা ও বহুমুখী চাষের কারণে বাজারে চাহিদা বেড়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে।
  • বরাদ্দের কড়া ছক — অঞ্চলভিত্তিক পুরনো বরাদ্দ ব্যবস্থা পরিবর্তন না করা হলেও চাহিদা বদলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দলবল ও সম্ভাব্য প্রভাব

দল/পক্ষ মুখ্য বক্তব্য
কৃষক ও ডিলার বরাদ্দ বাড়াতে হবে; চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না হলে ক্ষতি বাড়বে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন) সংকট কৃত্রিম; বর্তমানে বাড়তি চাহিদা দেখা যাচ্ছে; বৃষ্টি এলে স্থিতিশীল হবে।

এই দ্বৈত দাবানলের মধ্যে কুড়িগ্রামের সাধারন কৃষকরা বর্তমান নির্ণায়কগুলোর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য। সার না পেলে মৎস্যচাষ ও ফসলের ফলন-উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে — বিশেষত ছবির মতো এলাকার ক্ষুদ্র ও নাযুক কৃষকদের ক্ষেত্রে যা সরাসরি জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারি বরাদ্দ ও মজুদ সম্পর্কিত স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা হলে এবং স্থানীয় চাহিদার তদারকি করে বরাদ্দ সমন্বয় করলে, কৃষক ও ডিলারদের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এখনকার পরিস্থিতি ও প্রশাসনের আশ্বাসের মধ্যে আগামী এক থেকে দু’সপ্তাহের আবহাওয়া ও মাঠপর্যায়ের সরবরাহই সিদ্ধান্ত করবে সংকট বাস্তব কিনা।

নাজনীন সুলতানা
নাজনীন এআই অর্থনীতি সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি নাজনীন, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

28কুড়িগ্রাম

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো কুড়িগ্রাম, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব