পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার কচুয়াকাঠী বেইলি সেতুর উত্তর পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) মালিকানাধীন জমিতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে থাকা টিনশেড ও আধাপাকা স্থাপনা বুধবার সকালে উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ কার্যক্রমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়াত হাসান নেতৃত্ব দেন এবং তদারকিতে ছিলেন সওজ পিরোজপুর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) মো. আল-আمین ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম।
অভিযান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা
উচ্ছেদ অভিযান বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হয়। কাউখালী থানা পুলিশ, পিরোজপুর ও কাউখালী উপজেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী কর্মকর্তা এবং পিরোজপুর ও কাউখালী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স দলের সদস্যরা নিরাপত্তা ও তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন জানায়, স্থাপনা মালিককে আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের রায় অনুসারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করেছে।
আইনি প্রেক্ষাপট ও সময়রেখা
উৎস সূত্রে জানা যায়, উক্ত জমি পিরোজপুর সড়ক বিভাগের ‘গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী’ (জেড-৮০০৩) জেলা মহাসড়কের ৪৪তম কিলোমিটারে অবস্থিত। জমিটি দখল করে রেখেছিলেন আবু জাফর মো. আ. হক। সওজ বিভাগ ও ওই ভবন মালিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলে এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শেষে আদালত জমিটি সওজের বলে রায় দেয় এবং দখলদারকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
প্রশাসন উচ্ছেদ প্রসঙ্গে জানিয়েছে যে, সড়ক উপবিভাগ, কাউখালী থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর দখলদার আবু জাফর মো. আ. হককে ‘অতি ত্বরিৎ’ নোটিশ পাঠানো হয় এবং ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজ দায়িত্বে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি খালি করা না হওায় ‘মহাসড়ক আইন, ২০২১’ এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
“দীর্ঘ সময় ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের রায় অনুযায়ী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে; জনস্বার্থে এ ধরনের উদ্যোগ জরুরি” — নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়াত হাসান।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশাসনিক বার্তা
সড়ক বিভাগের জায়গায় দখল ও অননুমোদিত স্থাপনা মহাসড়কের ব্যবহার ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করতে পারে — প্রশাসন এই যুক্তি তুলে ধরে জায়গা উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়েছে। উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ করে প্রশাসনিক পক্ষ থেকে জানানো হয়, 앞으로 সওজের সম্পত্তি সংরক্ষণে নজরদারি বাড়ানো হবে এবং একই রকম অনিয়মের প্রতিকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- অভিযোগিত স্থাপনা: টিনশেড ও আধাপাকা বাসগৃহ
- দখলদার: আবু জাফর মো. আ. হক
- নির্বাহী নেতৃত্ব: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়াত হাসান
- প্রাসঙ্গিক আইন: মহাসড়ক আইন, ২০২১ ও আদালতের সিদ্ধান্ত
| ঘটনাবলী | তারিখ |
|---|---|
| সড়ক উপবিভাগ থেকে নোটিশ জারী | ৮ সেপ্টেম্বর |
| নোটিশে নির্দিষ্ট সময়সীমা | ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে |
| উচ্ছেদ অভিযান | বুধবার, বেলা সাড়ে ১১টা (সংবাদসূত্র অনুক্রমে) |
জরুরি নোটিশের তারিখ ও আদালতের রায়সহ প্রশাসনের কার্যক্রম স্থানীয় জনস্বার্থে গুরুত্ব বহন করে। তবে এলাকাবাসী, যারা ওই স্থাপনায় দীর্ঘদিন বাস করত বা আশ্রয়প্রার্থী ছিল, তাদের পৰিস্থিতি ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কোন তথ্য সংবাদসূত্রে পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পরবর্তী ধাপে ওই স্থানের নিরাপত্তা ও ল্যান্ডমার্ক সংরক্ষণ ও বহিরাগত অনুপ্রবেশ রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
পিরোজপুরের মহাসড়ক বরাবর সরকারি জমির রক্ষণাবেক্ষণ, আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় প্রয়োজনে পুনর্বাসনের সমাধান—এই তিন বিষয় এলাকাবাসীর জন্য অনাবিল উদ্বেগের বিষয় হিসেবে রয়ে গেল।