পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) মালিকানাধীন জমি থেকে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাঁচটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদকৃত স্থাপনাগুলো কচুয়াকাঠী বেইলি সেতুর উত্তর পাশে সড়কের ওপর গড়ে উঠেছিল এবং এলাকাবাসী ও কর্তৃপক্ষ বলছেন, অবৈধ দখল সেতু নির্মাণ কাজকে অনেক দিন ধরে বাধাগ্রস্ত করছিল।
অভিযান ও অংশগ্রহণকারী নেতৃত্ব
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন স্থানীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়াত হাসান। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আলা আমিন ও অন্যান্য প্রকৌশলী অফিসার; নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছিলেন কাউখালী থানা পুলিশ ও উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি দল। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো. রুবাইয়াত ফেরদৌস ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং উচ্ছেদ তদারকি করেছেন।
কেন উচ্ছেদ হল — আইনি প্রেক্ষাপট
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ওই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনা গঠন ও ব্যবহার করে আসছিলেন আবু জাফর মো. আ. হক নামের ব্যক্তি। সওজের মালিকানাধীন জমি হওয়ায় এবং প্রশাসন ও দখলদারের মধ্যে দীর্ঘদিনের মামলা থাকায় আদালত শেষে জমিটি সওজের বলে রায় দেয়া হয়। সওজ গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে উক্ত জমি থেকে 'অতীব জরুরি' নোটিশ জারি করে প্রতিপক্ষকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজস্বভাবে স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দেয়; দরকারি সময়ের মধ্যে তা না হওয়ায় আদালতের নির্দেশনাসহ জনস্বার্থে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অভিযানের ফল ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
উচ্ছেদ কার্যক্রমে বুলডোজার ব্যবহার করে টিনশেডসহ পাঁচটি দোকান-ভবন ধ্বংস করা হয়। উচ্ছেদ দেখে সকাল থেকেই ঘটনাস্থল এবং সড়কের উভয় পাশে জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার সমাধান হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট এবং আশাবাদী যে দ্রুত সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হবে ও যানজট কমবে।
“দীর্ঘদিনের পুরোনো স্থাপনাটি অপসারণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এখন সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে,”
— স্থানীয় বাসিন্দা সায়েম উদ্দিন।
প্রশাসনিক বক্তব্য
পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো. রুবাইয়াত ফেরদৌস বলেন, প্রশাসন জনস্বার্থ বিবেচনায় এবং আদালতের নির্দেশ মোতাবেক এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি জানান, সরকারি জায়গায় অবৈধ দখলমুক্তকরণ বন্ধ থাকবে না এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে এমন অভিযান চালানো হবে।
স্থানীয় অবকাঠামো ও পরিকল্পনা
সওজ সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় নতুন একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করার কার্যাদেশ ঠিক আছে। প্রকাশ্য হয় যে, সেতুটি গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী (জেড-৮০০৩) জেলা মহাসড়কের অংশ হিসেবে ৪৪তম কিলোমিটারে নির্মিত হবে এবং উচ্ছেদকৃত স্থাপনাগুলো সরানো না হলে নির্মাণ কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতো।
ঘটনার ক্রমিক সারাংশ
| তারিখ | কার্যক্রম |
|---|---|
| ৮ সেপ্টেম্বর | সওজ থেকে 'অতীব জরুরি' নোটিশ জারি |
| ১৪ সেপ্টেম্বর | নোটিশে সময়সীমা শেষ |
| ১৬ সেপ্টেম্বর | নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান |
সম্ভাব্য প্রভাব ও পরবর্তী ধাপ
- সেতু নির্মাণ: জমি খালি হওয়ায় পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ কাজে আর আইনি বা বাস্তব প্রতিবন্ধকতা থাকবে না বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।
- রাস্তা ও যানজট: সড়কের ওপর অবৈধ স্থাপনা থাকায় সৃষ্ট ক্ষেত্রে যানজট কমতে পারে।
- প্রতিষ্ঠানগত নজরদারি: ভবিষ্যতে সরকারি জমি রক্ষা ও অবৈধ দখল রোধে প্রশাসন একই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযান ও সেতু নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় মানুষের আশাবাদিত মন্তব্য এবং প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির ফলে এই অংশে তীব্র চাহিদা ও নজরদারি বজায় থাকবে। আগামী দিনে নির্মাণ কাজের গতি ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন কতটা গণপরিবহনে সুবিধা এনে দেয়, তা স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আকক্ষেয় বিষয় হয়ে থাকবে।