অভিযান ও গ্রেপ্তার
পাবনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) পৃথক অভিযান চালিয়ে ২১০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে সদর ও ঈশ্বরদীর বিভিন্ন জায়গায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অভিযানে আরও পাঁচ মাদকসেবী ধরা পড়ে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদেরকে সাজা দেয়া হয়েছে।
অভিযানের পরিস্থিতি
ডিএনসি পাবনা সার্কেলের উপপরিদর্শক সোহানের নেতৃত্বে বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার চর সদিরাজপুর (পুরাতন পাড়া) এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানেই নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে ২১০ গ্রাম গাঁজাসহ মো. রব্বেল ফারাজী (৩৩) নামে এক ব্যক্তি আটক হন। তাকে দায়ে করে ডিএনসি সোহান পাবনা সদর থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।
পৃথক অভিযানে আটক ও দণ্ডপ্রাপ্তরা
সরকারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সদর ও ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। ওই অভিযানগুলোতে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন করা হয়। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
- মো. শিপন (৪০) — চর সদিরাজপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে
- মো. হাফিজুর রহমান (৩২) — পাবনা পৌরসভার কৃষ্ণপুর গ্রামের দুলালের ছেলে
- মো. নাজমুস শাহাদত (৪১) — ঈশ্বরদীর যুগীতলা গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে
- শ্যামল ইসলাম (২৫) — বাঁশেরবাধা গ্রামের আপাল মন্ডলের ছেলে
- মো. রাশেদুল ইসলাম (২০) — নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কাচুটিয়া গ্রামের রবিউল মৃধার ছেলে
কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষক্য ও অফিসিয়াল বক্তব্য
ডিএনসি পাবনার পরিদর্শক মো. আব্দুর রহিম, উপপরিদর্শক সোহান ও উপপরিদর্শক মো. জামালুর রহমান অভিযানে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রসিকিউশনে জড়িত ছিলেন। অভিযানের বিষয়ে ডিএনসি পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,
“মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। চলতি আগস্ট মাসে এ পর্যন্ত মাদক অপরাধের ঘটনায় মোট ৪২ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী ব্যবস্থা
পাবনায় এসব অভিযানের ফলে মাদক চক্রের কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে; তবে সংশ্লিষ্টদের দণ্ডপ্রাপ্তি ও কারাগারে প্রেরণের পরেও স্থানীয় প্রশাসন মাদকবিরোধী তৎপরতা অব্যাহত রাখছে বলেই কর্মকর্তারা জানায়। শহীদুল মান্নাফের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য সংগ্রহ, বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে নিয়মিত অভিযান চলছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযানের দিন | ১২ আগস্ট (রাত) |
| উদ্ধারকৃত গাঁজা | ২১০ গ্রাম |
| প্রাথমিক গ্রেপ্তার | ১ জন (রব্বেল ফারাজী) |
| পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত | ৫ জন |
| চলতি আগস্টে আইনের আওতায় নেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা | ৪২ জন |
স্থানীয়রা বলছেন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ধরনের অভিযান জনমনে আশ্বাস সৃষ্টি করে; তবু দীর্ঘমেয়াদি ফল মেলার জন্য প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন ও এলাকাভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি জরুরি। মাদক নির্মূলের অভিযানের পাশাপাশি প্রশাসনের সহায়তায় সামাজিক ভিত্তি মজবুত করা না হলে সমস্যার পুনরাবৃত্তি বারণ করা কঠিন হবে।
ডিএনসি ও স্থানীয় প্রশাসন উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যতেও মাদকের বিস্তার রোধে অভিযান জোরদার করা হবে এবং অন্য কোনো সংস্থার সহযোগিতায় ইতিবাচক ফল মেলাতে চাওয়া হবে।