নেত্রকোণা জেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৬০.৪৯ শতাংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে জেলা শিক্ষা অফিস। একই সঙ্গে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৩.৬১% এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার ৪৬.০৬% হয়েছে।
জেলা ও উপজেলার ফলের ভিন্ন চিত্র
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোণায় মোট ১০টি উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১৯,৪৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১,৫০৮ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে এবং ৮২০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপজেলাভিত্তিক পারফরম্যান্সে ভিন্নতা দেখা গেছে। সর্বোচ্চ পাসের হার পাওয়া গেছে মোহনগঞ্জ উপজেলায়—৬৮.৩৬% এবং সর্বনিম্ন রয়েছে খালিয়াজুরিতে—৪৯.৪১%।
- মোহনগঞ্জ: ৬৮.৩৬%
- নেত্রকোণা সদর: ৬৪.৩১%
- মদন: ৬০.৮২%
- পূর্বধলা: ৬০.৪৯%
- কলমাকান্দা: ৫৯.২৮%
- দুর্গাপুর: ৫৮.৩০%
- কেন্দুয়া: ৫৫.০৭%
- আটপাড়া: ৫০.৮২%
- খালিয়াজুরি: ৪৯.৪১%
- বারহট্টা: ৪৯.৩১%
শতভাগ পাস ও ভোকেশনাল পর্যায়ের উদ্বেগ
জেলায় এবারে এক প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। কেন্দুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব ৩৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অপরদিকে কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্যের হার তুলনায় লো—ভোকেশনাল পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণকারী ২,২৪৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১,০৩৪ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জন।
জেলায় বিশেষ করে পৌরসভা এলাকায় ফল তুলনায় ভালো ছিল—পৌর এলাকায় এসএসসিতে পাসের হার ৭৯.৫২%, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮৭ জন। তাতে বিপরীতভাবে মালনী কারিগরি স্কুল থেকে এবারে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩১ জনের কেউ পাস করতে পারেনি; যা কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
সরকারি প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় ব্যাখ্যা
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ এ ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে ফল ভালো করতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে এনেই কাজ করা হচ্ছে—জেলাশহরের শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ মনে করেন, নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ও পাঠদানে মনোযোগী হলে ফলাফলে উন্নতি সম্ভব।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশাদুজ্জামান বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের মাধ্যমে পড়াশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই ভালো ফলাফল সম্ভব হয়েছে।”
প্রশাসনিক স্তরেও শিক্ষা উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেয়ার কথা প্রচলিত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতে কিভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেটাই তাকিয়ে থাকা বিষয়।
পাঠক-অভিভাবকদের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য
ফলাফল বিশ্লেষণ দেখায় যে: উপ-অঞ্চলগত বৈচিত্র্য বজায় আছে এবং পৌর ও গ্রামীণ এলাকায় পারফরম্যান্সে ফারাক লক্ষ্য করা যায়। অভিভাবকরা যদি চান তাঁদের সন্তানদের ফল আরও ভালো হোক, কয়েকটি বিষয় তারা বিবেচনা করতে পারেন:
- শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং টেলিগ্রেড পাঠদানের বিকল্প হলে তা কাজে লাগানো।
- শিক্ষকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও বাড়ি-টিউশন বা বাড়িভিত্তিক পাঠদানের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা।
- কারিগরি শিক্ষায় মনোযোগ বাড়ানো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান যাচাই করা—কারণ এখানে কৃতকার্যতার ঘাটতি স্পষ্ট।
সংক্ষেপ
সার্বিকভাবে নেত্রকোণা জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ৬০.৪৯% পাসের হার একপ্রকার স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করে। উপজেলা ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পার্থক্য ও কারিগরি শিক্ষায় নজিরহীন অনুপাত—এই দু’টি প্রশ্ন জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকে গেল। আগামী বছরগুলোর জন্য শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানো, শিক্ষাকৌশল উন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়াই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।