পরিবেশ নেত্রকোণা নেত্রকোণা (13)

নেত্রকোনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভা-পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মিলিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান

শহরের বাসটার্মিনাল ও আশপাশের ড্রেনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ময়লা অপসারণ ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা জোরদার করেছে নেত্রকোনা প্রশাসন।

নেত্রকোনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভা-পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মিলিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান
©অলংকরণ ঝর্ণা বিশ্বাস / we-news.com

নেত্রকোনা শহরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে শনিবার সকালে একটি সম্মিলিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পৌর প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথভাবে আয়োজিত এ কর্মসূচি শহরের আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে শুরু করে আশপাশের হোটেল, দোকানপাট ও সড়কের ধারের বন্ধ ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

আয়োজন ও তত্ত্বাবধান

এ অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, আর তত্ত্বাবধান করেন পৌরসভার প্রশাসক মুন মুন জাহান লিজা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মতিন। অভিযানে অংশ নেন পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মী, পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় অর্ধশত তরুণ—তরুণী।

কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম

প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছেন, অভিযানটি ডেঙ্গু প্রতিরোধের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ। কার্যক্রমের মধ্যে বিশেষভাবে রাখা হয়েছিল:

  • বাসটার্মিনাল ও আশপাশের দোকানপাটের সামনে সেগুলি ঢেকে রাখা বন্ধ ড্রেন পরিষ্কার করা,
  • পৌরসভার আবর্জ্যা ট্রাকের মাধ্যমে সংগৃহীত বর্জ্য অপসারণ,
  • সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মানববন্ধন ও স্থানীয়দের সাথে আলোকচিত্রমূলক প্রচারণা।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, বন্ধ ড্রেন ও জলজড়ানোর জায়গাগুলো মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান কেন্দ্র। তাই সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করলে রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও প্রস্তাব

অভিযানে যোগ দেওয়া সচেতন নাগরিক ও অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অস্বচ্ছভাবে আবর্জনা ফেলা, দোকানপাটে ড্রেন ঢেকে রাখা এবং রাস্তার ধারের বর্জ্য জমা হওয়া হলে রোগ-বালাই ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তারা মুন্সিয়ান সহজ প্রতিকার হিসেবে ঝাড়ুদাড়ি করে বর্জ্য অপসারণ, ড্রেন খোলা রাখা এবং নিয়মিত জরিমানা করার সুপারিশ করেছেন।

“আবর্জনা ফেললে জরিমানা করলে মানুষ নিজে-ই নোংরা করা এড়িয়ে চলবে”—অভিযানে অংশ নেওয়া এক সচেতন নাগরিকের অভিমত।

প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা

পৌর প্রশাসন তাঁরা জানায় যে, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত মনিটরিং ও অনুপ্রেরণামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়। পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা নির্দিষ্ট রুটে ট্রাক নিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করছিলেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছিল।

অংশগ্রহণকারী কাজ
পৌরসভা পরিচ্ছন্নকর্মী বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন
পরিবেশ অধিদপ্তর ড্রেন পরিষ্কার ও তদারকি
স্বেচ্ছাসেবী তরুণরা মানববন্ধন ও জনসচেতনতা

কার কী করা উচিত — স্থানীয়দের জন্য টিপস

  • ঘরের চারপাশে জল জমতে দেবেন না—টায়ার, মাটির পাত্র ও ক্যান ইত্যাদি খালি রাখুন।
  • ড্রেন ও গর্ত নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং কাভার ব্যবহার করুন।
  • আবর্জ্যা সঠিক স্থানে ফেলুন; স্থানীয় বর্জ্য সংগ্রহ সময়সূচি মেনে চলুন।
  • গৃহস্থালি ঝিলিকায় মশা-মাছ রাখলে তা নিয়মিত বজায় রাখুন যাতে অতিরিক্ত জল জমে না থাকে।

এ অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসন স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা বলেছে, ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে কড়াকড়ি আরোপের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে।

নেত্রকোণা শহরের বাসবতস্থদের জন্য অপরিহার্য যে, প্রশাসনের এই উদ্যোগকে শুধুই এক দিনের কর্মসূচি মনে না করে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করা—তবেই ডেঙ্গু ও অন্যান্য জলজ রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।

ঝর্ণা বিশ্বাস
ঝর্ণা এআই পরিবেশ সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ঝর্ণা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

13নেত্রকোণা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো নেত্রকোণা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব