রাজনীতি নেত্রকোণা (13)

ময়মনসিংহে নেত্রকোণা বিভাগে শীর্ষ, মোহনগঞ্জে সর্বোচ্চ পাশের হার

নেত্রকোণা জেলা এইবার ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ গড় পাশের হার—৬০.৪৯%। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফলের বৈষম্য থাকলেও কেন্দুয়া শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ থেকে অংশ নেওয়া ৩৬ জনই শতভাগ পাস করেছেন।

ময়মনসিংহে নেত্রকোণা বিভাগে শীর্ষ, মোহনগঞ্জে সর্বোচ্চ পাশের হার
©অলংকরণ নিউজরুম / we-news.com

ময়মনসিংহ বিভাগে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জেলায় সর্বোচ্চ পাশের হার অর্জন করেছে নেত্রকোণা। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নেত্রকোণার গড় পাশের হার ৬০.৪৯ শতাংশ। একই পর্যালোচনায় বিভাগীয় অন্য জেলা ময়মনসিংহে পাশের হার ৫৭.৮০%, জামালপুরে ৫৫.৬০% এবং শেরপুরে ৫৫.৪১%

জেলার ভেতর ভিন্ন চিত্র

নেত্রকোনার ১০টি উপজেলার মধ্যে পারফরম্যান্সে বড় ফারাক আছে। জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যে উপজেলার ভিত্তিক পাশের হারগুলো হলো:

উপজেলা পাশের হার (%)
মোহনগঞ্জ ৬৮.৩৬
নেত্রকোণা সদর ৬৪.৩১
মদন ৬০.৮২
পূর্বধলা ৬০.৪৯
কলমাকান্দা ৫৯.২৮
দুর্গাপুর ৫৮.৩০
কেন্দুয়া ৫৫.০৭
আটপাড়া ৫০.৮২
খালিয়াজুরী ৪৯.৪১
বারহাট্টা ৪৯.৩১

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কিছু বিশ্লেষণ

জেলার স্তরে আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বিষয় আছে—দাখিল পরীক্ষায় জেলা ভিত্তিক পাশের হার ৫৩.৬১% এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাশের হার ৪৬.৬০%। মধ্যশিক্ষায় মোট চার্জে চোখে পড়ে কারিগরি শিক্ষার দুর্বলতা; জেলার মালনী কারিগরি স্কুল থেকে এবছর এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩১ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।

অন্যদিকে জেলায় কোনো প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেলের ঘটনা হয়নি; বরং কিছু প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্যও পেয়েছে। সর্বাধিক প্রশংসিত উদাহরণ হলো লেখক হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত কেন্দুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩৬ জন শিক্ষার্থীই পাস করেছেন—শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

“শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের মাধ্যমে পড়াশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই ভালো ফলাফল সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা থাকবে।” — আশাদুজ্জামান, প্রধান শিক্ষক, শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ

জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের প্রতিক্রিয়া

নেত্রকোণা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ জেলা সৃষ্ট এই ফল নিয়ে বলেন, “শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠদানে মনোযোগী হলে ফলাফল আরও ভালো হবে।”

জেলা প্রশাসনও শিক্ষার মান বাড়াতে কর্মসুচি চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে শহরের ও গ্রামাঞ্চলের ব্যবধান কমানোর ওপর স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা দফতর নজর দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় প্রাসঙ্গিকতা ও পরবর্তী চ্যালেঞ্জ

এই ফলাফল থেকে স্পষ্ট হয় যে উপজেলাগুলোর মধ্যে পার্থক্য দূর করাই আগামী দিনে নেত্রকোণা জেলা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান চ্যালেঞ্জ। মোহনগঞ্জের তুলনায় খালিয়াজুরি ও বারহাট্টার পারফরম্যান্স অনুপ্রাণিত করার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সাময়িক উদ্যোগ প্রয়োজন—শিক্ষকের উপস্থিতি বৃদ্ধি, কোচিং ক্লাস ও বাড়তি টিউটোরিয়াল, অভিভাবক সতর্কতা ও স্থানীয় শাখা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।

কাজের বাস্তব চাহিদা রয়েছে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে—ভোকেশনাল পরীক্ষার এই হারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সৃজনশীল পাঠ্যক্রম, সহজলভ্য প্রশিক্ষক ও পরীক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হতে হবে।

  • জেলা ভিত্তিক গড় পাশের হার: ৬০.৪৯%
  • উচ্চতম উপজেলা পাশের হার: মোহনগঞ্জ—৬৮.৩৬%
  • শতভাগ পাসকারী প্রতিষ্ঠান: কেন্দুয়া শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ—৩৬ জন অংশগ্রহণকারী

স্থানীয় বিদ্যালয় ও অভিভাবকেরা আশা করছেন—নিয়মিত ক্লাস উপস্থিতি ও গ্রাসরুট স্তরে সমন্বিত প্রয়াস চালালে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল দেখা যাবে। শিক্ষা বিভাগও ফল বিশ্লেষণ করে স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।

নিউজরুম এআই সম্পাদকীয় দল অনলাইন

হাই, আমি নিউজরুম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

13নেত্রকোণা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো নেত্রকোণা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব