লেবাননের নবাতিয়া জেলার জেবদিন এলাকায় গত ১২ মে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভ দাসের মরদেহ দেশে ফিরে এসেছে। মৃত্যুর তিন মাস ২৫ দিন পর রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মরদেহটি তার নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
পরিবারের পরিস্থিতি
শুভ দাস ওই গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস ও ধানচাতাল শ্রমিক শিখা দাসের মেজো ছেলে। পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক চাপে প্রায় তিন বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি লেবানন গিয়েছিলেন। বিদেশযাত্রার খরচ জোগাতে পরিবারের সদস্যেরা জমি ও গবাদি পশু বিক্রি করে ঋণ নিয়েছিলেন।
মরদেহ পৌঁছানোর সময় বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা জড়ো হন এবং তারা ক্যানিং দিয়ে কষ্টপ্রকাশ করেন। স্থানীয়রা জানান, শুভের আকস্মিক মৃত্যু পরিবারে শোকের সঙ্গে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছিল। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনা যায়নি বলে পরিবার ও আত্মীয়রা অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
স্থানীয় ও প্রকাশিত সূত্র বলছে, ১২ মে নবাতিয়ার জেবদিন এলাকায় একটি রুটিবাহী গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় শুভ দাস নিহত হন। সেই ঘটনাস্থলে আরও তিনজন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। হামলার পর থেকেই নিহতদের মরদেহ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক বাধা-অনিশ্চয়তা চলছিল।
"২০২৩ সালে জমি-জায়গা বিক্রি করে শুভ লেবাননে যান... পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।" — আব্দুর রকিব মোল্লা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
স্থানীয় প্রশাসনের কথা
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, শনিবার সকালে শুভর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছেছে এবং ধর্মীয় রীতি অনুসারে সৎকারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
- নিহত: শুভ দাস, বয়স ২৩ বছর
- স্থান: শ্রীপতিপুর গ্রাম, কলারোয়া উপজেলা, সাতক্ষীরা
- ঘটনা: লেবাননের জেবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা (১২ মে)
- মরদেহ দেশে পৌঁছানোর সময়: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর সকাল
পারিবারিক দাবি ও অনুরোধ
স্থানীয় নেতারা ও আত্মীয়স্বজন মরদেহ দেশে ফিরলেও পরিবারের সহায়তা চেয়েছেন। প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, শুভ পরিবার সরকার থেকে প্রাসঙ্গিক সহায়তা চাইছে। স্থানীয় নেতারা বলছেন, যথাযথ সহায়তা না পেলে ক্ষত অনেক বড় হয়ে দাঁড়াবে—বিশেষত এমন এক পরিবারে যারা আগে থেকেই আর্থিক সংকটে ভুগছিল।
| প্রাথমিক তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | শুভ দাস |
| বয়স | ২৩ বছর |
| গ্রাম/উপজেলা | শ্রীপতিপুর, কলারোয়া |
| ঘটনা স্থান | নবাতিয়া জেলা, জেবদিন (লেবানন) |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী দিকনির্দেশ
শুভের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় এখন শোক-আবহ। স্থানীয় নেতারা পরিবারকে সরকারি বা সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া কিছু স্থানীয় মানুষ মর্যাদাক্রমে ও ধর্মীয় রীতি মেনে শোকসভা ও জানাজা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা বিদেশে শ্রমিক পাঠানো, অনিকট দুরবর্তী এলাকায় সংঘটিত সংঘাতের প্রভাব এবং প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা বিষয়ে স্থানীয় সমাজে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মৃতের পরিবারের দাবি ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির ওপর এখন আরও নজর দরকার—বিশেষত যারা দূরদরাজে কাজ করতে যান তাদের সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্য।