সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি এবং অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে জেলা পর্যায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সাংসদ ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদিদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অভিযোগ ও নিন্দা
সংসদ সদস্য খালেক বলেন, ঐতিহ্যবাহী মেলায় অনিয়ম, বিশেষ করে চাঁদাবাজি মেনে নেওয়া যায় না। তিনি অভিযোগ করেন যে মেলার পরিবেশ থেকে বিভিন্ন অনুকূল সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনৈতিক উপায়ে অর্থ আদায় হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জেলার সাধারণ অপরাধ (চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই) ও মাদক বিস্তার রোধে তৎপরতা বাড়ানোরও দাবি জানান।
“এটাকেও আমরা নিন্দা জানাই, এটাকে আমরা ধিক্কার জানাই, এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ জানাই,”
উপরের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে তিনি ব্যক্ত করেন। তাঁর ভাষ্য মতে, জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রশাসনিক ব্যবস্থা দ্রুত শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
মেলার আয়-ব্যয় এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা
মেলার আয়-ব্যয় ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে মূলতই সরোকারি জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রে বলা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিত মেলায় প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা এ উৎসবের প্রথম ২২ দিনে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আদায় হয়েছে—তবে এই অর্থের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও প্রকাশ্যে আসে নি।
সংপৃক্ত কিছু কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে জানিয়েছে, মেলা থেকে পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন কোনো রাজস্ব পায়নি। মেলা পরিচালনায় জড়িতদের কথায়, আয়ের হিসাব তাদের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে নেই। এই দ্বন্দ্ব ও অস্পষ্টতার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় রাজনীতিকদের উদ্বেগ স্বাভাবিক বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
কী দাবি উঠেছে
- চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ করার ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া।
- মেলার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব 공개ের মাধ্যমে জন আস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
- জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি (চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকের বিস্তার) মোকাবিলায় কার্যকর অভিযান।
সংসদ সদস্য খালেক বলেন, জনজীবনে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া
জেলার প্রশাসনিক ও পৌর কর্তৃপক্ষ মেলা পরিচালনার বিষয়ে যে পরিমাণ রাজস্ব পায় না—এটি তাদের দেয়া বক্তব্য। তবে মেলা থেকে যে পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও হিসাব চাওয়ার দাবি করেছেন রাজনৈতিক নেতারা। মেলার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা না থাকলে জনস্বার্থে অনিশ্চয়তা ও সন্দেহ থেকে যাবে, যা সামাজিক অবস্থা প্রভাবিত করতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ মেলাকে ঐতিহ্য ও পর্যটন স্বরূপ রক্ষা করতে চান, তবে একই সঙ্গে তারা চাইলেন যে মেলার আর্থিক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ড স্বচ্ছ হবে। মেলার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষা চালানোর আহ্বানও উঠেছে।
পরবর্তী প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য কার্যক্রম
এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মেলার আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত ও স্বচ্ছ উদ্যোগ নেন, তাহলে মেলার ঐতিহ্য বজায় রেখে জনআস্থা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে বলে মত রয়েছে।
| বিষয় | উল্লেখিত তথ্য |
|---|---|
| মেলা শুরু | ১ অক্টোবর |
| অভিযোগের সময়কাল | প্রথম ২২ দিন |
| অভিযোগিত আয় | প্রায় ৫ কোটি টাকা |
এ ঘটনার সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে স্থানীয় প্রশাসন, মেলা পরিচালনা কমিটি ও প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেয়া প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, মেলার স্বচ্ছতা ও ঐতিহ্য রক্ষাই এখন প্রধান চাহিদা।