সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চের একদল সভাসদ ও নেতাকর্মীর ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই জমায়াত নেতা—সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুস সবুর ও জামায়াত কর্মী নুরুন্নবী।
আহতদের হাসপাতালে ভর্তি ও অবস্থা
জামায়াত সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে আব্দুস সবুরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর আহত নুরুন্নবীরও স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে—জামায়াত পক্ষ ঘটনার বিবরণী থেকে এসব তথ্য জানিয়েছে।
জামায়াতের অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ
জামায়াতের জেলা সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলেন, লংমার্চের গাড়িবহর যমুনা সেতু পার হয়ে সয়দাবাদ এলাকা দিয়ে যাওয়ার পর আব্দুস সবুর জোহরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হলে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রধারী তাদের ওপর হামলা চালায়। তাঁর দাবি, আব্দুস সবুরের দুই হাত, পা ও পিঠে আঘাত লাগে।
“সকাল থেকেই একটি দল লংমার্চের গাড়িবহরে হামলার চেষ্টা করছিল। গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর লংমার্চে আসা ব্যক্তিদের ওপর বিচ্ছিন্নভাবে হামলা করা হয়েছে।” — শহিদুল ইসলাম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি, জামায়াত
জামায়াতের বক্তব্যে কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা জামায়াত অভিযোগ করেছে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকের নেতৃত্বে বিএনপির কয়েকজন কর্মী এই হামলায় যুক্ত ছিল—তাদের মধ্যে নাম উঠে এসেছে হাসান, আল আমিন ও পারভেজসহ কয়েকজনের।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেছেন, পুলিশ ঘটনাটি শুনেছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তৎক্ষণিকভাবে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি—পুলিশ বলতে থাকে তথ্য যাচাই করে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রাসঙ্গিকতা
ঘটনাটি ঘটে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে। এমন সময়ে জনসমক্ষে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং আইন-শৃঙ্খলা সংরক্ষণে জোরদারি কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা বাড়ায়।
কী বলা হচ্ছে স্থানীয়দের কথা?
পুলিশি তথ্য ও জামায়াতের দাবির মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ থাকায় ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে নিরপেক্ষ ও লিখিত অভিযোগভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। হামলার মূল কারণ, অস্ত্রধারীদের সূত্র ও ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজনের ভূমিকা সম্পর্কে পুলিশি অনুসন্ধানই ঘটনার প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করবে।
- ঘটনার সময় ও স্থান: ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর, সয়দাবাদ (যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কের পাশে)
- আহত: আব্দুস সবুর, নুরুন্নবী (জামায়াত)
- জামায়াতের দাবি: বিএনপির কর্মীরা হামলার সাথে যুক্ত
- পুলিশ বলছে: লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে
| নাম | পজিশন / পরিচয় | প্রাথমিক অবস্থান | চিকিৎসা কেন্দ্র |
|---|---|---|---|
| আব্দুস সবুর | সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির | গুরুতর | বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (স্থানান্তর) |
| নুরুন্নবী | জামায়াত কর্মী | আহত | সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা |
এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে স্থানীয় জামায়াত নেতৃত্ব। অপরদিকে, অভিযোগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অথবা বিএনপির পক্ষে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকতার সময়ের মধ্যে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বা ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। পুলিশের লিখিত অভিযোগ ও তদন্তের প্রতিবেদন আসার পর পরবর্তী সংবাদে তা প্রতিফলিত করা হবে।
নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত কার্যক্রমের ওপর নজর থাকবে—বিশেষত যখন রাজনৈতিক কর্মসূচি বড় পরিসরে চলছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও অংশগ্রহণকারীদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রয়োজনীয় বিচরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা উঠছে।