কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকা ছোটআলমপুর মোহনায় গত শনিবার বিকেলে একটি নৃশংস হত্যা ও মরদেহ টুকরো করে লুকিয়ে রাখার ঘটনা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। ওই বাড়ির একা থাকা গৃহবধূ ফরিদা বেগম (৫৫)কে নিয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার দেহ বিভিন্ন অংশে টুকরো করে নবটি পলিথিন ব্যাগে রাখা ছিল।
ঘটনার পরিচিতি ও উদ্ধারকাজ
স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরিদা বেগমের স্বামী বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি জাহাজে কর্মরত। তিনি বাড়িতে একা থাকতেন। শনিবার সকালে পরিবারের কেউ তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে বিকেলে বাড়ির পেছনে কয়েকটি কালো পলিথিন ব্যাগ দেখতে পান নিহতের আত্মীয়ের মামুন। পলিথিনের ভেতর মানুষের খণ্ডিত দেহ দেখতে পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন।
দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোট ৯টি পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। তবে পুলিশের কাছে জানানো হয়েছে যে মৃতদেহের মাথা ও একত্ব পা এখনও উদ্ধারে আসেনি—যা মৃত্যুর প্রকৃতি ও ঘটনার পূর্ণ চিত্র বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ।
"মরদেহের ৯টি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ মাথা ও পা উদ্ধারে অভিযান চলছে। আটক লাইলী আরও চারজনের নাম বলেছেন, যা আমরা যাচাই করছি। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।"
প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেফতার
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সন্দেহে বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগম (৪০)কে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্যদেরও জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে—অর্থাৎ পুলিশ বলা অনুযায়ী তদন্তে আরও নাম উঠে এসেছে এবং তা যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা অভিযুক্তকে সন্দেহ করে তাঁকে আটক করে এবং তাকে গ্রাম্য দিব্যি শাস্তি দেয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ এসে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং এরপর থানায় রিমাণ্ডে নিয়ে আসে।
পূর্বেকারের অভিযোগ ও ঘটনার প্রেক্ষাপট
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, অভিযুক্ত লাইলী বেগমের বিরুদ্ধে পুরোনো একটি মানসিক ও অপরাধমূলক ইতিহাস আছে। সূত্রে বলা হয়, ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে লাইলী ও তার ভাসুরের বিরুদ্ধে ছোট এক শিশুর হত্যার অভিযোগ ছিল—যার জন্য লাইলী ছয় বছরের সাজা ভোগ করে এবার জামিনে বাহিরে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি নিহত ফরিদা বেগমের বাড়িতে ভাড়া নিয়ে বাসা শুরু করেন।
এই তথ্যগুলো অনুসারে ঘটনার সম্ভাব্য প্রবণতা ও পূর্ববর্তী অপরাধজীবন তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তবে তদন্তকারীরা হত্যার প্রকৃত কারণ, চক্র এবং ঘটনা পরিকল্পিত ছিল কি না, তা উন্মোচনে কাজ করে যাচ্ছেন।
- ঘটনার স্থান: দেবীদ্বার পৌর এলাকা, ছোটআলমপুর মোহনা, কুমিল্লা
- নিহত: ফরিদা বেগম (৫৫)
- গ্রেফতার: লাইলী বেগম (৪০), বাড়ির ভাড়াটিয়া
- উদ্ধারকৃত অংশ: ৯টি খণ্ড (মাথা ও পা এখনও অনুপস্থিত)
| দায়িত্ব | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার তারিখ (প্রকাশিত) | শনিবার (প্রকাশিত ০৯ আগস্ট, ২০২৬) |
| অবস্থান | ছোটআলমপুর মোহনা, দেবীদ্বার পৌর, কুমিল্লা |
| নির্বাহকারী পুলিশ | দেবীদ্বার থানা |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী করণীয়
স্থানীয়রা রিপোর্ট করছে যে, এলাকায় আতঙ্ক ও বিরক্তি ছড়িয়েছে। বিশেষ করে একা বসবাসকারী গৃহবধূদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পুলিশ প্রত্যাশিত যে দ্রুত তদন্ত শেষে অপরাধীদের সম্পূর্ণ শৃঙ্খলে আনা হবে এবং মিসিং অংশ উদ্ধারের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
দেবীদ্বার থানার কর্মকর্তা বলেছেন যে অভিযুক্ত লাইলী আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে কাজ চলছে। তদন্ত শেষে মামলাটি আদালতে প্রেরণ করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুমিল্লার এ ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপরে চাপ বাড়াচ্ছে যে তারা কীভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করবে এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। তদন্তে নথিভুক্ত প্রত্যয়ন ও হাসপাতালে ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল পরে জানা যাবে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংগ্রহ করে ও তদন্তের অগ্রগতি অনুসরণ করে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।