কক্সবাজার: আন্তর্জাতিক যুব দিবসকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীয়ের যুব শাখার আয়োজনে বুধবার বিকেলে শহরের রাস্তায় বর্ণিল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাশেমিয়া আলিয়া মাদরাসা গেট থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাবলিক হল গেটে শেষ হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট পরে ছিলেন; তাদের কণ্ঠে তরুণ উদ্দীপনামূলক গান পরিবেশকে রঙিন করেছে। প্রধান সড়কের দুইপাশে র্যালি দেখতে আগত মানুষের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো ছিল।
আয়োজকরা বললেন—তরুণদের গঠনই জাতির ভবিষ্যৎ
র্যালির পূর্বে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, সভাপতিত্ব করেন জেলা যুব বিভাগের সভাপতি মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা দেশ-সমাজে পশ্চিমাচার, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরেন এবং তরুণদের নৈতিক ও দীক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
“দুশ্চিন্তার বিষয় হলো দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের কারণে দেশের অনেক সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত তরুণ সমাজ গড়ে তুললেই দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব”
এই কথা বলেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী, যিনি র্যালির উদ্বোধন করেন। তিনি আরো বলেন যে, দেশের সম্পদ ও সৌন্দর্যে ভরপুর প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে অপার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে।
র্যালির আয়োজন ও অংশগ্রহণকারীরা
র্যালির আয়োজন ও পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের নয়, বরং জামায়াত জেলা যুব শাখার নেতা-কর্মীরা। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব—সচিব, সভাপতি ও কমিটির সদস্যরা।
- সমাবেশের সভাপতি: মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ
- অনুষ্ঠানের সঞ্চালক: আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম
- উদ্বোধক: অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী র্যালির প্রধান লক্ষ্য ছিল যুবসমাজকে সমুজ্জ্বল ও নীতিবান নাগরিক হিসেবে গঠন করা। অংশগ্রহণকারীরা মঞ্চে বক্তব্য রাখেন এবং পথসভায় তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগানে আহ্বান জানান।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
কক্সবাজারে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন সময় সময়ে জনসমাবেশ ও র্যালি করে থাকে; এই ধরনের কর্মসূচি শহরের জনজীবনে সরাসরি দৃশ্যমান প্রভাব ফেলে। রাস্তায় প্রদক্ষিণকারী যুবক-যুবতীদের উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পথচারীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে। তবে সমসাময়িক রাজনীতি ও নিরাপত্তা দিকগুলোও নজরে রাখতে হয়—বড় ধরনের সমাবেশ হলে যানজট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে।
র্যালি শেষে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের খবর পাওয়া যায়নি বলে আয়োজকরা দাবি করেন। শহরের নিরাপত্তা বাহিনীও সাধারণ পর্যবেক্ষণে ছিল।
সমালোচনা ও প্রশ্নবোধ
এই ধরনের ধর্মভিত্তিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের যুব আয়োজনে কিছু নাগরিক প্রশ্নও তুলেছেন—তরুণদের নৈতিক ও দক্ষতাগঠনের পাশাপাশি বাস্তবিক কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংস্থারও প্রয়োজন। র্যালিতে বক্তারা মূলত নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের প্রতি জোর দিলেও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কর্মশালা, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি শিক্ষা সংক্রান্ত বাস্তব উদ্যোগের দাবি নজরে আসে।
| পথচিহ্ন | বর্ণনা |
|---|---|
| শুরু | হাশেমিয়া আলিয়া মাদরাসা গেট |
| শেষ | পাবলিক হল গেট |
| উদ্যেশ্য | তরুণদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক চেতনা জাগানো |
র্যালিতে বক্তারা বারবার বলেন যে, কেবল নৈতিক আদর্শে তরুণদের প্রশিক্ষণ করলেই হবে না; তাদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চাই—এমন প্রতিশ্রুতি দুর্বলভাবে হলেও বারবার শোনা গেছে।
কক্সবাজার শহরে অনুষ্ঠিত এই র্যালি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির ধারাবাহিকতার অংশ। আগামী দিনে তরুণদের নিয়ে যে কোনো কর্মসূচি যদি স্থায়ী ও বাস্তবসম্মত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তবে তা স্থানীয় যুবসমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে—এটাই প্রত্যাশা।
কী ধরে রাখবেন: যদি আপনি কোনো বৃহৎ সমাবেশে যোগ দিতে চান, সামাজিক দূরত্ব ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলুন; ব্যক্তিগত মূল্যবান জিনিস সতর্কে রাখুন এবং আয়োজনকারীর নির্দেশনা অনুসরণ করুন।