নওগাঁর মান্দা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি থেকে সব মিলে চারশোর বেশি ফলন্ত কলা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষ্মীরামপুর গ্রামে এটি ঘটেছে।
ভুক্তভোগীর 주장 ও ঘটনার বিশদ
ভুক্তভোগী আব্দুল জলিল জানান, তার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শরিকান জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তিনি বলেন, আদালতে মিটমাটশীল একটি মামলা বিচারাধীন থাকলেও মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিপক্ষের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক এসে তার দেড় বিঘা জমিতে থাকা ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলেন। তিনি গণনাবশত বলেছেন যে তাদের ক্ষতি প্রায় তিন লাখ টাকা হওয়ার কাছাকাছি।
“দীর্ঘদিন ধরে শরিকান জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ ... আমার দেড় বিঘা জমির ফলন্ত কলা গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছেন। এতে আমার অন্তত ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
জলিল আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ছিল ৩৫–৪০ জন এবং দেশীয় অস্ত্র বহন করছিল। তারা বাধা দিতে গেলে তাদেরকে ধাওয়া করে, বাড়ির প্রধান দরজা আটকে দিয়ে তাদেরকে বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ করা হয়। একইসময় তাঁর ভাই ইসমাইল হোসেনের বসতবাড়ি চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তদের নাম ও প্রাথমিক প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
ভুক্তভোগীর অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের— আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, মজিদুল ইসলাম ও শাহজাহান আলী। অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তদের কেউ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।
মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম সংবাদ মাধ্যমে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও জোরালো প্রশ্ন
কলা গাছ কাটা শুধুমাত্র একক সম্পত্তির ধ্বংস নয়; নিম্নআয়ের পরিবারের আয়-উপায় ও ঋতুভিত্তিক উপার্জনেও বড় ধরনের ছেঁড়া পড়ে। ফলন্ত গাছ কেটে ফেলার ফলে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ দাবি ও জীবিকা পুনরুদ্ধারে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন। একই সঙ্গে অস্ত্রের আশঙ্কাজনক ব্যবহার ও গ্রাম পর্যায়ে সংঘবদ্ধ হামলার বিষয়টি স্থানীয় নিরাপত্তা ও বিধি-প্রশাসনে ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া দাবি করে।
- ঘটনার সময়: মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা (স্থানীয় সময়)।
- ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি: দেড় বিঘা জমির ফলন্ত কলাগাছ—প্রায় ৪০০টি।
- ভুক্তভোগীর দাবিকৃত ক্ষতি: প্রায় ৩ লাখ টাকা।
- অভিযুক্তের সংখ্যা (নামভিত্তিক): ৫ জন উল্লেখিত নাম; ঘটনায় উপস্থিত লোকজন দাবি অনুযায়ী ৩৫-৪০ জন।
আইনি প্রক্রিয়া ও নাগরিক করণীয়
এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত প্রত্যক্ষদর্শী, ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি ও মোবাইল ফোনের ভিডিও/ছবিসহ সব প্রমাণ সংগ্রহ করা জরুরি। থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল সালিশ করে ও সাক্ষ্যগ্রহণ করে, এরপর জেলা আইনশৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক তদন্ত শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও থানা থেকে দ্রুত পদক্ষেপ না হলে ক্ষতিগ্রস্থরা সাধারণত আদালতের দ্বারস্থ হন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | লক্ষ্মীরামপুর গ্রাম, ভালাইন ইউনিয়ন, মান্দা উপজেলা |
| অভিযোগকারী | আব্দুল জলিল |
| অভিযুক্ত (নাম) | আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, মজিদুল ইসলাম, শাহজাহান আলী |
| পুলিশ প্রতিক্রিয়া | ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে; লিখিত অভিযোগ না থাকায় তদন্ত বাকি |
স্থানীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে থানা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত তদারকি প্রয়োজন বলেই জানিয়েছে সামাজিক সচেতন অংশ। ক্ষতিগ্রস্থের দাবি ও সাক্ষ্যপত্রের ভিত্তিতে মামলার সূত্র ধরে আগামী কার্যদিবসে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে কিনা—এটি অনুসরণযোগ্য বিষয়।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দাখিলের পরে আমরা পুলিশ উদ্ধৃতসহ প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ প্রতিবেদনেও যুক্ত করবো।