গোপালগঞ্জে সম্প্রতি দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং করার কারণে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগ ওজোপাডিকো পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়ে জরুরি নিরাপত্তা সহযোগিতা চেয়েছে।
কারিগরি সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনিক উদ্বেগ
ওজোপাডিকো জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে দুইটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র-এর মাধ্যমে—একটি পাওয়ার হাউজ ক্যাম্পাসে এবং আরেকটি চরপাথালিয়ায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ কম পাওয়া যাওয়ায় চাহিদা পূরণে অনিয়মিততা তৈরি হচ্ছে। এতে নিয়মিতভাবে লোডশেডিং করতে হচ্ছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
চিঠিতে ওয়েস্ট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন পুলিশ সুপারের কাছে উল্লেখ করেছেন যে, লোডশেডিংয়ের ফলে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠায় বিদ্যুৎকেন্দ্র, স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বা কোনো অপ্রীতিকর কাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। এ কারণে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য দপ্তর ও উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশ টহলের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক এবং গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিয়মিতই নিরাপত্তা প্রদান করা হয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগের এ ধরনের অনুরোধ সাধারণত মেনে নেয়া হয়। তিনি বলেন,
"এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে এসব জায়গায় নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।"তিনি আরও জানান যে মোবাইল টিম ও টহল দলে এসব স্থাপনার দিকে বিশেষ নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে।
জীবনযাত্রা ও ব্যবসায় প্রভাব
লোডশেডিংয়ের কারণে গোপালগঞ্জের বাসিন্দারা তীব্র অনিষ্টে পড়েছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে পৌর এলাকার মানুষ বলছেন দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সূত্রে বলা হয়েছে, অনেক জায়গায় দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ অবরুদ্ধ থাকে, ফলে ঘুম, চিকিৎসা ও ব্যবসায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
- সমস্যার কারণ: বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া ও জাতীয় গ্রিড থেকে কম বরাদ্দ।
- অবস্থান: পৌর এলাকার সরবরাহ হচ্ছে ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলো থেকে (পাওয়ার হাউজ ক্যাম্পাস ও চরপাথালিয়া)।
- প্রশাসনিক পদক্ষেপ: পুলিশকে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা বৃদ্ধির অনুরোধ, মোবাইল টিম ও টহল বাড়ানো হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| লোডশেডিং সময় | প্রতিদিন প্রায় ৮–১০ ঘণ্টা |
| সরবরাহ কেন্দ্র | ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র (পাওয়ার হাউজ ক্যাম্পাস, চরপাথালিয়া) |
| নিরাপত্তা অনুরোধকারী | ওজোপাডিকো (গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগ), নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন |
| প্রতিলিপি প্রাপ্ত | জেলা প্রশাসক, এনএসআই যুগ্ম পরিচালক, গোপালগঞ্জ সদর থানা ওসি ইত্যাদি |
বর্তমান পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক না হলে তা সূত্রধরে লঘু-প্রতিষ্ঠানিক ক্ষতি ছাড়িয়ে গোপালগঞ্জের ব্যবসায়িক কার্যকলাপ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনকে দ্রুত(()=> প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাগ্রহণের পাশাপাশি খতিয়ে দেখতে হবে গ্রিড থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভবনা ও বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিকল্পনা করা যায় কিনা।
এদিকে গ্রাম-বনবিতা থেকে পৌর এলাকায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষই তীব্র লোডশেডিংয়ের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন। প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ এই দুই দিকেই কাজ করলে দফায় দফায় ঘটমান সংযোজন ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।