সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মধুপুর পেরুয়া গ্রামের ফেরিওয়ালা এক বাবাকে—দু’টি শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরের পানিতে ফেলে হত্যা করার অভিযোগে—গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বড় উদ্বেগ ও নিন্দার সৃষ্টি করেছে এবং নিহত দুই শিশুর পরিবারে গভীর শোক নেমে এসেছে।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তথ্য
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম পুলিশ প্রতিবেদনে কামরুল ইসলাম হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই সন্তান দুজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দিরাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ঘটনার পটভূমিতে পারিবারিক কলহ ও আর্থিক সংকটকে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিনগুলো সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে দেখা যায়—গত ৭ আগস্ট পারিবারিক কলহের পর কামরুল স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বিবাদ নিয়ে বাসা থেকে বের হন। পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রথমে বাড়ি থেকে বড় কিশোরী-ছেলেকে নিয়ে যান এবং পরে ছোট মেয়ে শিশুকে সিলেটমুখী পথে একটি হাওরে ফেলে দেন। এরপর দুই দিন সিলেটে অবস্থান করার পর এক শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে সুনামগঞ্জের গোবিন্দপুর এলাকার একটি হাওরে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথাও পুলিশের কাছে স্বীকার করেন তিনি।
নিহত ও ঘটনার মিলিত চিত্র
| বিষয় | প্রতিবেদনভেদে পাওয়া তথ্য |
|---|---|
| নিহত শিশুদের পরিচয় | পেরুয়া-মধুপুর গ্রামের মোহাদ্দিস ও তুলনা (পরিবারের দাবী) |
| শিশুদের বয়স | একাংশ প্রতিবেদনে ৭ বছর ও ৫ বছর; অনেকে ৬ বছর ও ৪ বছর উল্লেখ করেছেন |
| গ্রেপ্তারের সময় ও স্থান | স্থানীয়দের সন্দেহের ফলে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর—দিরাই থানার কার্যক্রম |
পরিবারের অবস্থা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনটন ও কলহ লেগেই ছিল। নিহত শিশুর মাকে পুলিশ ও স্থানীয়রা শোকে ভেঙে পড়া দেখেছেন; তিনি দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, কিছুবছর ধরে পরিবারের মধ্যে অপর্যাপ্ত আয়, দ্বন্দ্ব ও মানসিক টানাপোড়েন লক্ষ্য করা যেতো।
পুলিশি বক্তব্য
“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে,”
— দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।
ওসি আরও জানিয়েছেন, দুই শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর হাওরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। হত্যাকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে এবং তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করার প্রস্তুতি চলছে।
উদ্ধার ও শনাক্তের প্রক্রিয়া
ঘটনার পর কয়েকটি স্থানে অজ্ঞাত শৈশব মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়রা ও পুলিশ এগুলো পরীক্ষা করে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দুটি দেখে নিজের সন্তান হিসেবে শনাক্ত করেছেন। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার একজন কর্মকর্তা জানান, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের করণীয় ও অনুসন্ধান
- পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।
- চলমান তদন্ত শেষে হত্যার দায়ে কাউকে অভিযুক্ত করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
- পরিবারের অনুকূল সহায়তার জন্য সামাজিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রয়োজন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এই ঘটনায় স্থানীয় স্তরে সামাজিক শোক ও নিন্দার সঙ্গে প্রশাসনিক তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে। ওই এলাকার মানুষ এখন ঘোর শোকে নিমগ্ন; একই সঙ্গে তারা বলছেন, শিশু নিরাপত্তা ও পরিবারের চাপ মোকাবেলায় সমন্বিত প্রশমন ব্যবস্থা না থাকলে এমন শোকান্ত ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যায়।
পুলিশ কার্যক্রম ও তদন্তের অগ্রগতি অনুসারে এই প্রতিবেদনে পরিবর্তন আসে এমন তথ্য যোগ করা হবে।