চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানায় দায়ের হওয়া গাড়িচালক মো. সজিব হত্যার মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০,০০০ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম।
রায়ের সারমর্ম ও আসামিদের অবস্থান
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে বিবেচনা করা হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে একজন—ফেনীর নুরুল আলম টুটুল—রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর দুই আসামি হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের নুরুল আমিন ও কুমিল্লার দেবিদ্বারের মো. শাহজাহান পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। আদালত পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন এবং টুটুলকে সাজা পরোয়ানামূলক কার্যক্রমে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ মামলা সংক্রান্ত প্রাথমিক তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার
মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার পটভূমি ও তদন্তের বিবরণে বলা হয়েছে—গত ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে গাড়িচালক মো. সজিব নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের দশ দিন পর ২৭ অক্টোবর পাহাড়তলী থানার টোল রোডের পূর্ব পাশে শিল্প পুলিশের অধিগ্রহণ করা জমির পশ্চিম পাশে সেকান্দরের কৃষিজমি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মিল করে মরদেহ সজিবের হিসেবে পরিচিতি নিশ্চিত করা হয়।
মরদেহে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন—মাথার পেছনে থেঁতলানো আঘাত, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম—রিপোর্টে উল্লেখ করা আছে। পুলিশ তদন্ত শেষে তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর অভিযোগ গঠন হওয়া এবং পরে দীর্ঘ শুনানির পর এই রায় আসে।
- মৃতক: মো. সজিব (নোয়াখালী, চাটখিলের বাসিন্দা)
- রায় ঘোষণা করেছেন: পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম
- দণ্ডিত: নুরুল আমিন (বানিয়াচং, হবিগঞ্জ), মো. শাহজাহান (দেবিদ্বার, কুমিল্লা), নুরুল আলম টুটুল (ফেনী সদর)
- অর্থদণ্ড: প্রত্যেকে ৫০,০০০ টাকা
আদালত কর্তৃপক্ষ ও সাক্ষীর ভূমিকা
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর জানিয়েছেন, মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালত এই সাক্ষীসমূহকে রায়ের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
“২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে গাড়িচালক মো. সজিব হত্যা মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।”
রায়ের পরে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে টুটুলকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠাতে হবে। পলাতক আসামিদের জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, যা কার্যকর করা হবে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও আগামী পদক্ষেপ
স্থানীয়ভাবে হত্যাকাণ্ড ও তার বিচারের রায় পরিবারের জন্য বড় ধরনের সোজাসুজি সমাধান হলেও, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারিকরণ ও চারিত্রিক কারণ-প্রশ্ন একাধিক উৎকন্ঠা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তদন্ত ও অভিযানের ধারা অব্যাহত থাকবে।
| পদ | তথ্য |
|---|---|
| মামলার প্রথম দায়ের ও তদন্ত | পাহাড়তলী থানা; নিয়োজিত পুলিশ ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন |
| রায় | মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেকে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা |
| আসামিদের বর্তমান অবস্থা | টুটুল আদালতে উপস্থিত; নুরুল আমিন ও মো. শাহজাহান পলাতক |
এই রায়ের ফলে স্থানীয় কোর্টে সামনের দিনগুলোতে আপিল ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম কেমন হবে, সে দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। মামলার অন্য পক্ষের আইনজীবী বা পরিবারের মন্তব্য প্রকাশ পাওয়া যায়নি (প্রতিবেদন লেখার সময়ে)। ভবিষ্যতে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে আরও আইনানুগ কার্যক্রম ঘটে কি না — সেটিই চট্টগ্রামের এ মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটি হিসেবে দেখা হবে।
চট্টগ্রামবাসীর নিরাপত্তা, পথে-ঘাটে বিচ্ছিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহনঝুঁকি সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এই ধরণের উচ্চমাত্রার শাস্তি স্থানীয় আলোচনায় ও প্রশাসনিক তৎপরতায় প্রভাব ফেলবে।