চট্টগ্রাম বন্দরকে আবারও ব্যস্ততার নতুন পালা দেখল—এবার একক জাহাজে রপ্তানিপণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজীকরণে নতুন রেকর্ড হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) জেনারেল কার্গো বার্থের জিসিবি-১১ নম্বর ঘাটে আন্তর্জাতিক মেইন লাইন অপারেটর মায়র্স্ক লাইনের এমভি মায়র্স্ক বিনতুলু জাহাজে এক দিনে ১ হাজার ৭৮৪ টিইইউএস বা ৯৩৩ বক্স রপ্তানিপণ্যবাহী কনটেইনার যোগ করা হয়। একই সঙ্গে ওই জাহাজে খালি কনটেইনার হিসেবে আরও ১৪৭ টিইইউএস (১৪৪ বক্স) ওঠায় মোট মিলিযেছে ১ হাজার ৯৩১ টিইইউএস কনটেইনার।
চোখে পড়া সংখ্যা ও গন্তব্য
বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জাহাজটি সেই দিনই মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং অভিমুখে যাত্রা করেছে। বন্দরে এই একক জাহাজে রপ্তানিপণ্যবাহী কনটেইউএসের পরিমাণ হিসেবে এটি προηγούμεনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে—গত ১৮ জুন এক জাহাজে ১ হাজার ৪৩৯ টিইইউএস রপ্তানি ছিল পূর্বের সর্বোচ্চ।
| ঘটনা | টিইইউএস (TEUs) | বক্স (approx.) |
|---|---|---|
| রপ্তানিপণ্যবাহী কনটেইউএস (এমভি মায়র্স্ক বিনতুলু) | ১,৭৮৪ | ৯৩৩ |
| খালি কনটেইউএস | ১৪৭ | ১৪৪ |
| মোট কনটেইউএস তোলা হয়েছে | ১,৯৩১ | — |
বন্দর, লজিস্টিক ও ব্যবসায়ীদের প্রভাব
একক জাহাজে এতো বড় পরিসরের রপ্তানি বোঝাই অর্থনীতির অনুকূল সংকেত বয়ে আনলেও এর সঙ্গে লজিস্টিক চাপও বেড়ে যায়। বন্দরের দিক থেকে কার্যক্রম বাড়লে ঘাটে পারমাণবিকতা, যানজট এবং সংরক্ষণস্থলের চাহিদা বাড়ে। চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল ও অবকাঠামো সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখতে হবে যাতে নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন ও দ্রুত মালবহন নিশ্চিত হয়।
- বন্দর কার্যক্রমে অস্থিরতা কমাতে দ্রুত ট্রানজিট ও ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা জরুরি।
- খালি কনটেইনার ম্যানেজমেন্টে নতুন নীতি বা অস্থায়ী সঞ্চয়ের সুযোগ দরকার হতে পারে।
- স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বড় করে রপ্তানি করলে জ্বালানি, কন্টেইনার সরবরাহ ও ট্রান্সপোর্ট খরচে প্রভাব পড়বে।
“এমভি মায়র্স্ক বিনতুলু ১ হাজার ৯৩১ টিইইউএস কনটেইনার নিয়ে বুধবার মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে,”
জিসিবি্—এর একটি বড় অপারেশন হিসেবে এ ধরনের সফল বোঝাই বন্দরের সক্ষমতা ও সার্ভিস লেভেলের ওপর ভালো ইঙ্গিত দেয়। তবে একই সঙ্গে বন্দরে চাপ সম্পর্কে বিভিন্ন কণ্ঠস্বরও উঠে এসেছে; চেম্বার অফ কমার্স বা সংশ্লিষ্টরা নন-বন্ডেড এলাকার খালি কনটেইনার রাখার অনুমতি চাওয়ার আবেদন করেছে, যা বন্দরের পরিচালনা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
পরবর্তী ধারা ও নজরদারি
বন্দর কর্তৃপক্ষকে এখন নন-বন্ডেড ও বন্ডেড এলাকা, কনটেইনার ঘুমন্ত সময় হ্রাস, ট্রান্সপোর্ট লিংক শক্ত করা এবং ঘাটে নিরাপত্তা বজায় রেখে দ্রুত প্রসেসিং নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে হবে। রপ্তানিকারকদের জন্য দ্রুত লেনদেন মানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ; তবে দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ডক সক্ষমতা বাড়ানো এবং মালবাহী পরিচালনার উন্নতি না হলে এমন চাপ নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, এই রেকর্ডের ফলে বন্দরের সরবরাহ সৃষ্ট ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক করিডোরে চট্টগ্রামের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এরপরও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকারিতার ধারাবাহিকতা ও খালি কনটেইনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠছে—তারা দ্রুত সমাধান না হলে পরবর্তী কয়েক মাসে পুনরাবৃত্তি ঝুঁকি থাকবে।
রিপোর্টিং ও যাচাই করা তথ্যের উপর ভিত্তি করে জানানো যাচ্ছে যে, এই রেকর্ডের বিষয়টি বন্দরের নিজস্ব ঘোষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জাহাজটি ওই একই দিনই মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়েছে।
— চট্টগ্রাম সংবাদদাতা, WE NEWS