অপরাধ দোয়ারাবাজার সুনামগঞ্জ (53)

বসতভ문의 জমি না পাওয়ায় শ্বশুরকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা: দোয়ারাবাজারে তিনজন গ্রেফতার

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বসতভিটার জমি লিখে না দেওয়ায় ৭৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত পুত্রবধূ ও আরও দুই জন গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ড চুক্তিভিত্তিকভাবে সংঘটিত হয়েছিল।

বসতভ문의 জমি না পাওয়ায় শ্বশুরকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা: দোয়ারাবাজারে তিনজন গ্রেফতার
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বসতভিটা লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোজা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামের বৃদ্ধকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করার মাধ্যমে নিহত করার অভিযোগ এসেছে তার পুত্রবধূ হোসনা বেগম (৩৮)-এর বিরুদ্ধে।

ঘটনার বিবরণ ও তদন্তের ধারাবাহিকতা

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে মোহাম্মদ আলী নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে মৃত অবস্থায় পান। তড়িঘড়ি লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় লাশের মুখে রক্তের চিহ্ন ও গলায় কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং তদন্ত শুরু করে।

পুলিশের তদন্তে short-list করা প্রমাণ ও জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক পরিচয় উঠে আসে। মামলায় বাদী করা হয়েছেন নিহতের নাতনি আছমা বেগম (২৬)। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি—হোসনা বেগমই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী; আর দুইজন চুক্তিভিত্তিক ঘাতক হিসাবে সরাসরি অংশগ্রহণ করে।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচিতি ও অভিযোগ

নামের তালিকা বয়স দায়ে অভিযুক্ত
হোসনা বেগম ৩৮ প্রধান পরিকল্পনাকারী
রুহুল আমিন ২২ ঘাতক (চুক্তিভিত্তিক)
নজরুল ইসলাম ২০ ঘাতক (চুক্তিভিত্তিক)
  • ঘটনাস্থল: নরসিংপুর ইউনিয়ন, সোনাপুর গ্রাম, দোয়ারাবাজার।
  • সময়: শুক্রবার রাত (১৪ আগস্ট) — শনিবার সকালে লাশ পাওয়া (১৫ আগস্ট)।
  • ময়নাতদন্ত: সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে তারা আদালতে পাঠিয়েছেন। অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে দুইজন ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অংশ নেয়।

পরিবারিক দ্বন্দ্ব ও সম্ভাব্য আলোচ্য প্রেক্ষাপট

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার জমি লিখে দেওয়া নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল। বিষয়টি নিয়েই মনোমালিন্য চলছিল—পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও তাঁর সৌদি প্রবাসী স্বামী ইসমাইল মিয়ার নামে জমি লিখে দেওয়ার দাবি থাকলেও তা পূরণ না হওয়ায় বিরোধ গর্ষিত হয়। পুলিশের তদন্তে এ ঘটনার পেছনে ঐ জমি-বিবাদকে হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, কীভাবে পরিবারের ভেতরে এমন চরম সহিংসতা সংঘটিত হলো—এমন ধরনের বিবাদের উত্তাপে সম্পর্কগুলো কখনো কখনো শুধু শুরু হয়, কারো কাছেই তা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হোসনা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা

গ্রামবাসী ও নিহতের আত্মীয়-স্বজন ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা দ্রুত ন্যায়বিচার ও কঠোর তদন্ত চেয়েছেন। আদালতে অভিযুক্তদের সোপর্দ করার পর থানাভিত্তিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং আরও কারিগরি প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, স্থানীয় সূত্র ও সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করবে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকার সামাজিক নেতৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে পরিবারিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিবারণ, জমি-বিবাদ নিষ্পত্তিতে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া এবং গ্রাম পর্যায়ে সালিশি প্রক্রিয়া সক্রিয় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকেই।

এই মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এগোলে নতুন তথ্যও সামনে আসতে পারে; আমরা তদন্তের অগ্রগতি অনুসরণ করে পাঠকদের জানাতে থাকব।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

53সুনামগঞ্জ

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো সুনামগঞ্জ, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব