বাংলাদেশ বগুড়া বগুড়া (18)

বগুড়ার ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবারের এসএসসি—একজনও পাস করতে পারেনি

বগুড়ার আটটি দাখিল মাদরাসা ও একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শূন্য পাসের ঘটনাগুলো বেরিয়ে এসেছে; জেলা প্রশাসন কারণ অনুসন্ধানে ইউএনওদের নির্দেশ দিয়েছে।

বগুড়ার ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবারের এসএসসি—একজনও পাস করতে পারেনি
©অলংকরণ সাবরিনা হক / we-news.com

বগুড়ায় এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের একজনও পাস করতে পারেনি—জেলা শিক্ষা বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শূন্য পাস রিপোর্টে নাম থাকা এই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটি দাখিল (মাদরাসা) ও একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান। ফল প্রকাশের পর সোমবার (১০ আগস্ট) এই চিত্রটি সামনে আসে এবং জেলা প্রশাসন দ্রুত কারণ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

কোন প্রতিষ্ঠানগুলো শূন্য পাসে আছে?

জেলা শিক্ষা বিভাগের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, শূন্য পাসের মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—

উপজেলা প্রতিষ্ঠান
গাবতলী কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদরাসা
শিবগঞ্জ বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসা
শিবগঞ্জ ধাড়িয়া গাংগইট দাখিল মাদরাসা
শিবগঞ্জ দুদাহার রহমানিয়া দাখিল মাদরাসা
শেরপুর কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদরাসা
শেরপুর মধ্যভাগ বালিকা দাখিল মাদরাসা
ধুনট হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল বিএম কলেজ (কারিগরি)
ধুনট রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদরাসা
সোনাতলা তেকানী চুকাইনগর পিএম দাখিল মাদরাসা

প্রতিষ্ঠান প্রধান ও প্রশাসনের মন্তব্য

গাবতলীর ওই মাদরাসার সুপার আব্দুল জলিল বলেন, পঞ্চাশ বছরের কর্মজীবনে এটি সবচেয়ে দুর্বল ব্যাচ হওয়ায় তারা হতাশ। তিনি জানান, নানা প্রয়াস নিয়েও এক-দুইটি বিষয়ে ফেল হওয়ায় ফল শূন্য হয়েছে।

“আমার ৫০ বছরের কর্মজীবনে এটি সবচেয়ে দুর্বল ব্যাচ। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এক বা দুটি বিষয়ে ফেল করায় কেউ পাস করতে পারেনি। কেন এমন ফল হলো, বুঝতে পারছি না।”

শিবগঞ্জের বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসার সুপার জুয়েলুর রহমান স্থানীয়ভাবে পাঠদানের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় অনাগ্রহকে ফলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি এন-এমপিওভুক্ত না হওয়ায় অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও ছাত্রছাত্রীদের অনিয়মিত উপস্থিতিও সমস্যা তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সলমা আক্তার জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের মাধ্যমে ফলের কারণ খতিয়ে দেখানো হবে এবং শিক্ষকদের অভাব বা অন্য কোনো সহায়তা প্রয়োজন কিনা তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন তা জরুরি বিষয়?

একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের ঘটনা স্থানীয় শিক্ষাক্ষেত্রে নানা প্রশ্ন তোলে—শিক্ষক-সম্পদ, পাঠদানের মান, পরিচালনাগত দুর্বলতা ও ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি-মনোভাব ইত্যাদি। জেলার ভবিষ্যত কর্মশক্তি ও উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ওপর এর প্রভাব পড়বে। প্রশাসনিক তদারকি না থাকলে সমস্যাগুলো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

  • প্রশিক্ষণ ও সহায়তা: যদি কোনো প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক সংকট থাকে, দ্রুত স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জরুরি।
  • পরিচালনাগত পর্যালোচনা: নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানে স্থায়িত্ববোধ কম থাকলে আর্থিক সহায়তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
  • পরীক্ষার প্রস্তুতি: ছাত্রদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় অসহনীয়তা থাকলে কিভাবে মনোযোগ ফিরিয়ে আনা হবে, সেটা দেখা দরকার।

জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, যেন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত অবস্থা জানার পর কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

পরবর্তী করণীয় ও স্থানীয় প্রভাব

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার উপায় খোঁজাই এখন প্রধান কাজ। জেলা কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত সহায়তা ও তদারকি নিশ্চিত করে, তাহলে পরবর্তী বছরের পরীক্ষায় ফল উন্নত করা সম্ভব। এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে যেন শিক্ষার্থীরা হার না মানে।

স্থানীয় কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে জেলা প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেবে তা পরবর্তীতে জানা যাবে। আপাতত ফলের এই ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।

সাবরিনা হক
সাবরিনা এআই বাংলাদেশ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি সাবরিনা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

18বগুড়া

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো বগুড়া, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব