বগুড়া সদর উপজেলার আশোকোলা পূর্বপাড়া (বাঘোপাড়া) এলাকায় রবিবার রাতে প্রকাশ্যে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি হলেন নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের নির্বাচিত সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তিনি বাড়ি ফেরার পথে বাঘোপাড়া ব্রিজ সংলগ্নস্থানে দুর্বৃত্তদের আক্রমণের শিকার হন এবং সেখানেই নিহত হন।
ঘটনার সময় ও উদ্ধার
স্থানীয়রা জানিয়েছে, রবিবার রাতে সাইফুল বাঘোপাড়া বন্দর মোড় থেকে চা খেয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করে; বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রমজান ও নিঝুম নামের দুইজন ধারালো রামদা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বলে আদালত ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে, তিনি ওই সময় সাইফুলের সঙ্গে বন্দর মোড় থেকে বাড়ির দিকে আসছিলেন। ব্রিজ পার হওয়ার পর অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তাদেরকে ধাক্কা দেয় এবং আকস্মিকভাবে সাইফুলকে কোপাতে শুরু করে। তিনি দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। স্থানীয় লোকজন আহত সাইফুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের কাজ ও প্রাথমিক অনুমান
বগুড়া সদর থানার ওসি মো. ইব্রাহিম আলী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও জড়িতদের গ্রেফতারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তিনি বলেন, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয়রা বলছে নেপথ্যে পূর্বের কোনো গ্রাম্য সালিশের বিরোধ থাকতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ মানবস্রোত ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
“হামলার নেপথ্যে পূর্বের গ্রাম্য সালিশের বিরোধ থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে,”
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি স্মার্টফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিহতের শরীরে একাধিক কোপের চিহ্ন দেখা গেছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ময়নাতদন্তের ফল ও অন্যান্য আলামত বিচার করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহতের পরিচিতি ও পারিবারিক বক্তব্য
নিহত সাইফুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত আবেদ আলী মন্ডলের ছেলে। পরিবার ও পরিচিতরা জানায়, তিনি একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং স্থানীয়ভাবে সালিশবিচারে সক্রিয় ছিলেন। নিহতের ভাতিজি শারমিন খাতুন বলেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিরোধের কারণ রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না; বরং ব্যক্তিগত বা গ্রাম্য বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
“আমার চাচা দুইবার মেম্বার ছিলেন এবং এলাকায় নিয়মিত সালিশ-বিচার করতেন। এ কারণে কারও সঙ্গে তার পূর্বশত্রুতা থাকতে পারে। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় বলে মনে হচ্ছে না,”
প্রভাব ও স্থানীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ
বাঘোপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, গ্রামের রাস্তায় রাতের বেশিরভাগ সময় সড়কগুলো অরক্ষিত থাকে; ফলে ছোট-বড় বিরোধ দ্রুত সহিংস রূপ নিতে পারে। পুলিশি উপস্থিতি বৃদ্ধি ও বিচারের দ্রুততা এখন স্থানীয়দের প্রধান দাবি।
- ঘটনার সময়: রবিবার রাত (সূত্রভিত্তিক)
- স্থান: আশোকোলা পূর্বপাড়া (বাঘোপাড়া) ব্রিজ সংলগ্ন, বগুড়া সদর
- প্রাথমিক আলামত: এক জোড়া জুতা, একটি স্মার্টফোন
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | সাইফুল ইসলাম |
| উল্লেখিত বয়স | সূত্রভিত্তিক: ৫০–৫২ বছর |
| পদ | নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের সাবেক সদস্য; ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি |
| হামলার অস্ত্র | ধারালো রামদা (প্রতীক্ষিত) |
কি হবে পরবর্তী ধাপ?
পুলিশ বলছে, ঘটনা তদন্তের পর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, তল্লাশি ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ (যদি পাওয়া যায়) যাচাই করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, তৎপরতার ব্যতিরেকে গ্রামীণ বিরোধ ও পুরোনো শত্রুতায় একই রকম ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও অন্যান্য জেলার তুলনায় এখানে গ্রাম্য সালিশ এখনো বিরোধ সমাধানের প্রধান মাধ্যম হলেও কখনো কখনো তা সহিংসতার সূত্রও হতে পারে—এই ঘটনার প্রাথমিক ছায়াটিই স্থানীয়দের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করেছে। তদন্তের অগ্রগতিতে স্থানীয়দের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
পুলিশি অনুসন্ধান ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের আলোকে ঘটনার প্রকৃত কারণ, আক্রন্তদের পরিচয় ও সম্ভাব্য প্ররোচকতা সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।