বগুড়া—বগুড়া জজকোর্টে দায়িত্বশীল পদে থাকা সাত জন সরকারি আইন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (তথ্য অনুযায়ী সোমবার) জেলা প্রশাসকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তারা বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের বগুড়া ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত এবং দলের প্রতিবাদসূচক সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিত
পদত্যাগকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে সুচিত্রিত অভিযোগের মধ্যে প্রধান হলো ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় নেয়া নীতিগত অবস্থানের বিরুদ্ধে অসন্তোষ। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এই আইনজীবীরা বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
পদত্যাগকারীদের তালিকা
| নাম | পদ/উপাধি |
|---|---|
| অ্যাডভোকেট শাফিকুর রহমান শাফি | অতিরিক্ত পিপি |
| অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক | অতিরিক্ত জিপি |
| অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান | এপিপি |
| অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম | এপিপি |
| অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম | এজিপি |
| অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ | এপিপি |
| অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান সবুজ | এপিপি |
পদত্যাগের বক্তব্য ও উদ্বেগ
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরে দলের নেতৃত্ব ও উপস্থিত আইনজীবীরা যৌথভাবে ঘটনাটি পরিচালনা করেন। বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এই পদত্যাগের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন যে, স্বাক্ষরিত আবেদনগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
“জনগণের প্রত্যাশা ও ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।”
অ্যাডভোকেট শাফিকুর রহমান শাফি অভিযোগ করেন যে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি এ জাতীয় নীতিগত পরিবর্তনকে সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ব্যক্তিগত বিবেকের তাড়নায় পদত্যাগ করা তাদের সিদ্ধান্ত বলে জানান।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও আদালত প্রভাব
বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তাদের পদ শূন্য হলে মামলার অনুক্রমে দায়িত্বের পুনর্বন্টন, দফতর-পার্বত্য সময়সূচী ও মামলার তফসিল প্রভাবিত হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে যুক্তরা বলছেন, এসব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বিকল্প ব্যবস্থা না হলে বিচার কার্যক্রমে বিলম্ব বা ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
- আন্দোলনগত প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনার পর বিচার ও প্রশাসনক্ষেত্রে চলমান পরিবর্তনই এই পদত্যাগের প্রেক্ষাপট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- আইনি স্বাধীনতা: পদত্যাগকারীদের বক্তব্যে স্পষ্ট উদ্বেগ—বিচারপতি নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাঠামোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাড়ছে।
- প্রক্রিয়াগত পরবর্তী ধাপ: জেলা প্রশাসকসভ্যতায় প্রাপ্ত পদত্যাগপত্র আইনি মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত হবে, যেখানে তাদের পদশূন্যতা পূরণ বা পরিবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
কোথায় দাঁড়ায় প্রশ্নসমূহ
এ ধরনের পদত্যাগ স্থানীয় আদালত ব্যবস্থার কার্যক্রম, মামলার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি বরাবর দায়িত্ব পালনকালে স্বাধীনতার ধারণাকে নতুন করে সামনে এনে দেয়। এখন প্রশ্ন হল—আইন মন্ত্রণালয় কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে বদলি/পুনরায় নিয়োগ সম্পন্ন করবে, সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কোন নীতিগত পদক্ষেপ নেবে। জেলা পর্যায়ে আইনজীবী সংগঠনের এই সিদ্ধান্ত সম্ভবত ওপরের স্তরে খানিকটা রাজনৈতিক আলোচনাও উত্তেজিত করবে।
স্থানীয় নেতারা এবং পদত্যাগকারীরা ভবিষ্যতে কি কোন আনুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা বা বিক্ষোভমূলক কর্মসূচি রাখবেন কিনা সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা নেই। তবে তাদের দাবি ও উদ্বেগ প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।