বাগেরহাট শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একটি পলি ক্লিনিকে পিত্তথলিতে পাথর অপারেশনের পর নাসিমা আক্তার (২০) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ করেছে এবং মৃতের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত দাবি করেছে।
ঘটনার স্বতর্কবাদ ও পরিবারের অভিযোগ
স্থানীয়রা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাসিমাকে পিত্তথলিতে পাথর থাকায় সোমবার রাতে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিক সূত্রে অপারেশন শুরু হয়েছে রাত আনুমানিক রাত ১১টা-এ। পরে অপারেশন চলাকালে মৃতু্য ঘটে—পরিবার বলছে রাত প্রায় ৪টা-র দিকে সে মারা যায়।
নাসিমার স্বামী সুমন হাওলাদার দাবি করেন যে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আড়াল করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি তাদের তাৎক্ষণিকভাবে না জানিয়ে পরবর্তীতে ভোরের নামাজের পর বহিরাগত দুই ব্যক্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে তাদের রোগী মারা গেছে। এদিকে পরিবারের সদস্যরা জানান, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
“আমার স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ জানতে চাই এবং ডাক্তারের বিচারের দাবি জানাচ্ছি,”
ক্লিনিক ও চিকিৎসকের বক্তব্য
ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ও চিকিৎসক সুনীল কুমার দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অপারেশন থিয়েটারেই রোগী হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে তাঁদের দায়িত্বে কোনো ঘাটতি ছিল না। ক্লিনিক পক্ষের এই বক্তব্য ও পরিবারের অভিযোগের মধ্যে বর্তমানে বিবাদ রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের অঙ্গীকার
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. ম. মাহাবুবুল আলম ঘটনাটির সম্পর্কে জানিয়ে বলেছেন, অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের পরই প্রকৃত কারণের পরিস্কার চিত্র পাওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
- নাম: নাসিমা আক্তার
- বয়স: ২০ বছর
- বসবাস: কচুয়া উপজেলার বারোদাঁড়িয়া গ্রাম
- পরিবারিক অবস্থা: সুমন হাওলাদারের স্ত্রী; তাদের ৭ মাসের একটি ছেলে রয়েছে
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নবদ্ধ বিষয়সমূহ
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একটি পলি ক্লিনিকে ঘটা এমন ঘটনার পর সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে—বিশেষত যখন পরিবার অভিযোগ করে ঘটনাটি ঢাকাপােলানো হচ্ছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে জরুরি প্রটোকল, রোগীর পরিবারের কাছে দ্রুত তথ্য জানানো এবং অপারেশনের সময় পর্যাপ্ত মনিটরিং থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এই মৃত্যুর ফলে নিকটস্থ ও জেলা পর্যায়ে কয়েকটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠছে:
- অপারেশনের সময় হৃদস্পন্দন ও অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী সূচকের পর্যবেক্ষণ ছিল কি?
- রোগীর পরিবারকে মৃত্যুর সংবাদ কীভাবে এবং কখন জানানো হয়েছিল?
- ক্লিনিকে জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানান্তর বা উন্নত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল কি?
পরবর্তী ধাপ ও প্রত্যাশা
সিভিল সার্জনের তদন্ত শেষে যদি চিকিৎসা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে। পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রত্যাশা করছে।
| ঘটনার বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রোগীর নাম | নাসিমা আক্তার |
| বয়স | ২০ বছর |
| অপারেশন শুরু | প্রায় রাত ১১টা (উৎস অনুসারে) |
| মৃতু্যকাল | প্রায় ভোর ৪টা (পরিবার-বক্তব্য অনুসারে) |
| ক্লিনিকের মন্তব্য | অপারেশন থিয়েটারেই হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু |
WE NEWS বাগেরহাট বিভাগ এই ঘটনার তদন্তের ফলাফল ও কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আপডেট সংগ্রহ ও পরিবেশন করবে। পরিবার, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের বিবৃতিসহ বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পাঠককে পরবর্তী সংবাদ জানানো হবে।