সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালত রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) দুই পৃথক মাদক মামলা নিষ্পত্তি করে দুজনকে জাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন; জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিচারক লাইলা শারমিন আদালতে আসামিদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে চালানো রায়-প্রকাশের সারমর্ম
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন—
- সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের মালশাপাড়া মহল্লার আব্দুল হাকিমের ছেলে শরিফুল ইসলাম (বুলান)
- রংপুর জেলার কোতয়ালী থানার উত্তর বাবু খাঁ গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে সোহেল রানা (সুমন)
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) শামচুজ্জোফা শাহান শাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রায় ঘোষণাকালে উভয় আসামি পলাতক ছিলেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
মামলার নথি ও ঘটনার বিবরণ
রায় ঘোষণার সময় বিচারক উভয় মামলার সাক্ষ্য-প্রমান ও দলিলাদি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত জানান। মামলাগুলোতে মামলা সংক্রান্ত মূল ঘটনাসমূহ মামলার অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে—
- প্রথম ঘটনার সময়— ২০২০ সালের ৯ মার্চ সিরাজগঞ্জ শহরের ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে শরিফুলকে আটক করে; তাদের দাবি, তল্লাশিতে ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় এসআই ফারুক সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
- দ্বিতীয় ঘটনার সময়— ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশ সোহেল রানার কাছে থেকে ভারতীয় তৈরি চেতনা নাশক ইনজেকশন জব্দ করে এবং এ সংক্রান্ত মামলা করা হয়।
“রায় ঘোষণার সময় উভয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না; মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট বিধির ওপর ভিত্তি করে রায় ঘোষণা করেছে,”
এই বক্তব্যটি আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) শামচুজ্জোহা শাহান শাহের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।
রায়ের প্রযুক্তি ও স্থানীয় প্রভাব
রায়ে উল্লেখিত শাস্তির মধ্যে জাবজ্জীবন মূল শাস্তি হিসেবে থাকলেও, ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার বিধান ও জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই রায় স্থানীয়ভাবে মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মাদক মামলার বিচারিক কার্যপ্রণালীর গুরুত্বকে সামনে এনেছে।
| বিষয় | প্রকৃত তথ্য |
|---|---|
| রায় ঘোষণার তারিখ | ৯ আগস্ট ২০২৬ (রবিবার) |
| বিচারক | লাইলা শারমিন, অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ |
| প্রসিকিউটর | শামচুজ্জোহা শাহান শাহ (এপিপি) |
| দণ্ডপ্রাপ্ত | শরিফুল ইসলাম, সোহেল রানা |
| মূল অভিযোগ | ইয়াবা, হেরোইন ও ভারতীয় চেতনা নাশক ইনজেকশন সরবরাহ/ possession |
স্থানীয় সমাজে এই রায়ের প্রভাব অনেকখানি আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত আলোচনাকে তীব্র করেছে। মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের পলাতক অবস্থান ও দীর্ঘ সময় ধরে বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠতেই দেখা যায়। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যে ধাপে অভিযান চালাচ্ছে এবং মামলাগুলো বিচার বিভাগের মাধ্যমে নিষ্পত্তি পাচ্ছে— সেই দিকটিও আলোচ্য হয়ে উঠেছে।
আদালতীয় রায় সাধারণত অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে। সিরাজগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা ও বিচারের গতিশীলতা রক্ষায় আইনপ্রণেতা, পুলিশ ও বিচার বিভাগ সব পক্ষের দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তবে মামলার পর্যায়ক্রমিক অগ্রগতি, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের প্রয়াস ও রায় বাস্তবায়ন— এসব বিষয় দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে অনুরোধের বিষয় বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে।
রায় সংক্রান্ত তথ্য আদালতের কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরের আনুষ্ঠানিক বিবরণি ভিত্তিক। মামলা ও রায়ের বিস্তারিত কাগজপত্রে আরও তথ্য থাকলে, তা অনুসরণ করে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।