চট্টগ্রাম—পাহাড়তলী এলাকায় ২০২১ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ বিচার শেষে আদালত সোমবার তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণা ও আদালতের বক্তব্য
চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম সোমবার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় এক আসামি—ফেনীর সদর উপজেলার নুরুল আলম টুটুল—আদালতে উপস্থিত ছিলেন; অপর দুই আসামি হবিগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা পলাতক বলে আদালত জানিয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর রায়ের পর মামলার প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তি সম্পর্কে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় প্রায় দুই-তহাই (২১) জন সাক্ষীর বক্তব্য ও সংকলিত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং সেই কারণে কঠোর শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।”
কী অভিযোগ, কী প্রমাণ
পুলিশি তদন্ত ও আদালতে জমা হওয়া নথি অনুযায়ী, গাড়িচালক মো. সজীব ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়া পর নিখোঁজ হন। ১০ দিন পর—২৭ অক্টোবর—পাহাড়তলী থানার টোল রোডের পূর্ব পাশের একটি কৃষিজমি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিচয়পত্রের মিল করে মৃতদেহটি চাটখিল (নোয়াখালী) উপজেলার বাসিন্দা মো. সজীব হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ রিপোর্টে বলা হয়েছে, মৃতদেহে মাথার পেছনে থেতলানো আঘাত, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল। ঘটনার তদন্তের পর তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় এবং ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সাজার তথ্যসারণী
| আসামির নাম | উত্তরসূরি/ঠিকানা | সাজা |
|---|---|---|
| মো. নুরুল আমিন | বানিয়াচং, হবিগঞ্জ | মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা |
| মো. শাহজাহান | দেবিদ্বার, কুমিল্লা | মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা |
| মো. নুরুল আলম (টুটুল) | ফেনী সদর | মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা (আদালতে উপস্থিত) |
নগরবাসী ও মামলার সামাজিক প্রভাব
পাহাড়তলীসহ এলাকাবাসী প্রায়শই ভোগেন যোগাযোগ ও যাতায়াত সংক্রান্ত ঝুঁকির সম্মুখীন—বিশেষত যারা পেশাগতভাবে মালামাল পরিবহন করে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চালক সমাজে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া ও কঠোর রায় এক ধরনের শাস্তিমূলক নীতির প্রতিফলন হলেও অপরিবর্তিত চাহিদা হচ্ছে দ্রুত ও কার্যকরী আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম যাতে অপরাধীরা দমন করা যায় এবং নির্দোষেরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
- মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।
- রায় ঘোষণার পর একটি আসামিকে সাজা পরোয়ানামূলকভাবে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
পরবর্তী প্রক্রিয়া
আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন—এই প্রক্রিয়া সাধারণত নিশ্চিত করে যে রায় চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত আপিল অধিকার প্রয়োগ করা হবে। মামলার সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা ছিল এবং সেগুলোই রায়ের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
চট্টগ্রামের এই হত্যা মামলা স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব বহন করার কারণ হলো: এটি শুধুই একটি ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ড নয়, একজন পেশাদার চালকের উপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, যা পরিবহন খাত ও স্থানীয় নিরাপত্তা প্রশ্ন উত্থাপন করে। রায়ের পরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এটি আগামীতে নিরীক্ষণের যোগ্য বিষয় থাকবে।
এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য আদালতের রায়, পুলিশি নথি ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর ভিত্তি করেই সংগ্রহ ও উপস্থাপন করা হয়েছে।