রুট বন্ধের কারণ ও শ্রমিকদের দাবি
বুধবার বিকেল থেকে ঢাকাগামী ও জামালপুরগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল ব্যাহত রয়েছে। জামালপুর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশীদ জানান, নান্দিনা বাজারে গত বুধবার সকালে রাজীব পরিবহনের দুইটি বাস ভাঙচুর করা হয়, চালক ও সহকারীদের মারধর করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন।
ট্রাফিক বিঘœ ও যাত্রীদের ভোগান্তি
জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। টার্মিনালে ঢাকাগামী বাসের প্রত্যাশায় দাঁড়িয়ে থাকা অনেক যাত্রী ব্যাকআপ যানবাহনে যাচ্ছেন, কিন্তু সেগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এক যাত্রী আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, মাইক্রোবাসে ঢাকায় যেতে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক ভাড়া প্রায় ৫০০ টাকা।
স্থানীয় ঘটনাপঞ্জি ও পূর্বের দুর্ঘটনা
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলেন, নান্দিনা বাজারে রাজীব পরিবহনের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করলে দুইটি বাসে ভাঙচুর চালানো হয়। এর আগে জেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাতের ধাক্কায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। এই দুর্ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।
“হামলার ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।” — হারুনুর রশীদ, যুগ্ম আহ্বায়ক, জামালপুর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন
চালক ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
রাজীব পরিবহনের চালক মিলন আহমেদ বলেন, তারা নান্দিনা বাজারে দুইটি বাস আটকে চালক ও সহকারীদের মারধর ও বাস ভাঙচুরের শিকার হয়েছেন এবং হামলাকারীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত চালনা বন্ধ থাকবে। অন্য এক চালক মাহবুব শেখ বলেন, আগেও বাসে আগুন দেওয়া এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, এজন্য প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না করলে জীবন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাবেন না।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানিয়েছেন, বাসচালকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং শ্রমিকদের পক্ষ থেকেও লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে; তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাসঙ্গিক পরিসংখ্যান ও স্থানীয় মন্তব্য
জেলার পরিবহন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে আছে। জেলার পরিবহনশ্রমিকরা ও সাধারণ মানুষ দুটোই নিরাপদ ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থার দাবি করেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী রাজীব পরিবহনের গাড়িগুলো গত ২০ মাসে অন্তত আটটি দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল, যেগুলোতে ১১ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। নিচের সারণিটি পাঠকের জন্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| সময়সীমা | দুর্ঘটনা | নিহত | আহত |
|---|---|---|---|
| গত ২০ মাস | ৮ | ১১ | ৩৫ |
- মূল অভিযোগ: চালক ও সহকারীদের উপর হামলা, বাস ভাঙচুর ও টাকা ছিনতাই।
- শ্রমিকদের চাওয়া: হামলাকারীদের দমন ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- যাত্রীদের পরিস্থিতি: ঢাকা যাতায়াত বাধিত, বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আরোপের অভিযোগ।
বর্তমানে পরিস্থিতি কেবল ঢাকা—জামালপুর রুটেই সীমাবদ্ধ নয়; জেলার অভ্যন্তরীণ পরিবহনও ধর্মঘট ও বিক্ষোভের প্রভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেবে, তা চূড়ান্তভাবে জানা যাবে তদন্তের পরেই। তবে এখনকার বাস্তবতা হলো—অনেকে জরুরি কাজে, চিকিৎসা বা ব্যবসায় ঢাকা পৌঁছাতে পারছেন না, এবং স্থানীয় বাজারগুলোও ধীরে ধীরে প্রভাবিত হচ্ছে।
জামালপুরবাসীর নিরাপত্তা ও নিয়মিত গণপরিবহনের সুষ্ঠু কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা গেলে রাতভর অবরোধ ও দূরপাল্লায় দুর্ভোগ কমবে—এটাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।