মানিকগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা ও আশপাশে পরিচালিত এক অভিযানে স্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে এবং একটি প্যাথলজি সেন্টার সিলগালা করেছে। অভিযানে হাসপাতাল ক্যান্টিনে ভেজাল মাছ পরিবেশন, খাবার সংরক্ষণে অনিয়ম ও প্যাথলজি প্রতিবেদন জালিয়াতির মতো দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে।
অভিযানের ফলাফল ও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ
সোমবারতির (১২ আগস্ট) দুপুরে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায় ও মোট জরিমানা আরোপ করা হয়।
- সারাহ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট (২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ক্যান্টিন): টাকি মাছের ভর্তা বলে পাঙাশ মাছের ভর্তা পরিবেশন, রেফ্রিজারেটরে খাদ্য অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সংরক্ষণ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি—এর ফলে ১৫,০০০ টাকা জরিমানা।
- দি নিউ হাই কেয়ার মেডিকেল সেন্টার: প্যাথলজি রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর নকল করার অভিযোগ—ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ধারায় ৫০,০০০ টাকা জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে।
- মাছ ব্যবসায়ী (কাঁচাবাজার, বাসস্ট্যান্ড): রঙিন লাইটের বিশেষ পর্দা ব্যবহার করে মাছকে সতেজ দেখানোর অভিযোগে ২,০০০ টাকা জরিমানা।
অভিযান থেকে উঠে আসা অনিয়মের বিস্তারিত
অভিযানে সারাহ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে দেখা যায়, ক্যান্টিনে ভোজনযোগ্যতা ও গুনগত মান সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে—খাবারের নামের সঙ্গে ব্যবহার করা উপকরণ মেলে না এবং সংরক্ষণ পদ্ধতিও অনুপযুক্ত। রেফ্রিজারেটরের ভেতরে খাদ্য অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাখা থাকায় খাদ্যদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।
আরেকটি গুরুতর অনিয়ম ছিল প্যাথলজি সেক্টরে: একটি ক্লিনিকে অনুপস্থিত চিকিৎসকের বদলে ল্যাব টেকনোলজিস্ট তার স্বাক্ষর নকল করে রিপোর্ট তৈরি করতেন, ফলে রোগী ও সেবাগ্রহীতারা মনগড়া বা সত্যতা যাচাইহীন রিপোর্ট পাচ্ছিলেন। এই জন্যই সংশ্লিষ্ট প্যাথলজি সেন্টারটি জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছে।
“সকাল থেকেই মানিকগঞ্জ শহরে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একটি ক্লিনিকে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে—প্যাথলজিতে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট তার স্বাক্ষর নকল করতেন, এইভাবে রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের মনগড়া রিপোর্ট দেওয়া হতো,”
স্থানীয় প্রভাব ও ভোক্তা সচেতনতা
এই ধরণের অনিয়ম স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি হুমকি। হাসপাতাল ক্যান্টিনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি হলে রোগের বিস্তার বা খাদ্যজানিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। তদ্রূপ, প্যাথলজি রিপোর্টে জালিয়াতি হলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ভুল পথে পরিচালিত হতে পারে—ফলে রোগীর অনিয়ত চিকিৎসা বা অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ তৈরি হয়।
স্থানীয়দের জন্য কয়েকটি প্রাকটিক্যাল নির্দেশনা:
- হাসপাতাল ক্যান্টিন বা ক্লিনিকে খাবার গ্রহণের আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের গন্ধ দেখে নিন।
- রেফ্রিজারেটরে রাখা খাবার কেনা বা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক তাপমাত্রা ও অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।
- প্যাথলজি রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ হলে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা করান অথবা জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
পরবর্তী ব্যবস্থা ও সতর্কতা
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে ও জনস্বার্থ রক্ষায় আরো অভিযান চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে এবং অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সিলগালা করা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করার পূর্বে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।
| প্রতিষ্ঠান | অভিযোগ | জরিমানা |
|---|---|---|
| সারাহ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট | ভেজাল পাঙাশ পরিবেশন, অস্বাস্থ্যকর সংরক্ষণ | ১৫,০০০ টাকা |
| দি নিউ হাই কেয়ার মেডিকেল সেন্টার | প্যাথলজি রিপোর্টে স্বাক্ষর নকল, সার্ভিস জালিয়াতি | ৫০,০০০ টাকা; সিলগালা |
| কাঁচাবাজারের এক মাছ ব্যবসায়ী | রঙিন লাইট দিয়ে তাজা দেখানো | ২,০০০ টাকা |
এ অভিযান ও জরিমানা স্থানীয় জনগণের স্বার্থে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও নিজেদের অধিকার ও সচেতনতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।