মানিকগঞ্জের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত নিউ হাই কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং সেন্টারের ল্যাব সিলগালা করা হয়েছে। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আদালতীয় আইন ও অভিযানের ঘটনা
সূত্র জানায়, অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল নেতৃত্বে বুধবার দুপুরে দর্শকবিহীন অভিযানে পাওয়া অভিযোগ যাচাই করে দেখা গেছে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসক আশরাফ উজ্জামান হামিম-এর স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট প্রদান করে আসছিল। অভিযোগের প্রমাণ মিলায় এবং ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
“ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্টে অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অধিদপ্তর জানায়, অভিযোগের সত্যতা ধরা পড়ায় আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকার জরিমানা করে এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাব সিলগালা করে দেয়া হয়।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফল ও রিপোর্ট রোগীর চিকিৎসা সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সুতরাং রিপোর্টে জালিয়াতি থাকলে রোগীর সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়, অনির্ভরযোগ্য রিপোর্ট ভুল ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ নেয়া, অপারেশনের বিলম্ব বা অনাকাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। স্থানীয় রোগী-পরিবার এবং চিকিৎসকদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এমন অনিয়ম রোগসেবায় আস্থা ক্ষুণ্ণ করবে।
অবহিতকরণ ও প্রতিকার — কী জানতে হবে ভোক্তাদের
- যে কোনও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী থেকে রিপোর্ট নেওয়ার সময় রিপোর্টে স্বাক্ষর ও হস্তাক্ষর যাচাই করুন।
- প্রতিবাদ বা অভিযোগের জন্য জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের স্থানীয় শাখায় যোগাযোগ করা যায়।
- রিপোর্টে সংশয় হলে অন্য নিয়ন্ত্রিত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা করিয়ে নিন।
অধিদপ্তরের বক্তব্যে বলা হয়েছে, ভোক্তা প্রতারণা ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্টে অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আইনী ধারার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারার ভিত্তিতে। সূত্রগুলো বলছে, উক্ত ধারা ভোক্তা প্রতারণা ও ভুল তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রাখে। বিষয়টি স্থানীয় আদালত বা ভবিষ্যৎ তদন্তে যেভাবে উন্নীত হবে তা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠান | নিউ হাই কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাসস্ট্যান্ড, মানিকগঞ্জ |
| অভিযোগ | চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট প্রদান |
| জরিমানা | ৪৫,০০০ টাকা |
| অবস্থা | ল্যাব সিলগালা |
পাশাপাশি অনুসন্ধান ও ভবিষ্যৎ পরিচালনা
অধিদপ্তর পরবর্তী সময়ে এই ধরনের অনিয়ম নির্মূল ও ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান বাড়াবে বলে জানিয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীরা আশা করছেন, তদন্তের পূর্ণতায় দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং ফলাফল সংবেদনশীলভাবে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
এই ঘটনায় পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নিউ হাই কেয়ার ডায়াগনস্টার কর্তৃপক্ষের দিক থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি; অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজনে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থানীয় আইনানুগ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে।
মানিকগঞ্জ থেকে রিপোর্টিং করলেন স্থানীয় প্রতিবেদক।