টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকরা ভোগছেন মিটার না পড়ে মনগড়া বিল প্রদান এবং ভুল মিটার রিডিংয়ের কারণে। শারীরিক অসুবিধা ছাড়াও আর্থিকভাবে শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়রা করছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ ও বাস্তব উদাহরণ
ফৈলারঘোনা গ্রামের প্রতিদিনের জীবিকা নির্বাহকারী ও বিদ্যুৎ গ্রাহক মো. আবু হানিফ জানান, তার বাড়িতে তিনটি লাইট ও ফ্যান এবং একটি ফ্রিজের ব্যবহার থাকলেও মিটারের রিডিংয়ে কাগজের বিল মিলছে না। তিনি বলেন, আগে যেখানে ৩০০–৫০০ টাকার বিল আসত, এখন সেখানে প্রায় ১২০০–২০০০ টাকার বিল করা হচ্ছে। হানিফ দাবি করেন, মিটার রিডাররা মিটার দেখে না—মনগড়া হিসাব করে বিল চাপিয়ে দেন।
ডেকরেটর ব্যবসায়ী আবু সাইদও অভিযোগ করেন, তার ক্ষেত্রে প্রায় ১২০০ ইউনিট অতিরিক্ত দেখানো হয়েছে। তারা অভিযোগ তুলে বারবার বিদ্যুৎ অফিসে জানিয়েও কোনও সমাধান পাননি।
“টাঙ্গাইলের ৯০ শতাংশ গ্রাহক ভুতুরে বিলের শিকার”
অন্যান্য একজন গ্রাহক জাহিদ নাম উল্লেখ করে বলেন যে, জেলার অধিকাংশ গ্রাহকই এই সমস্যার মুখে। প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন—প্রতিমাসে মিটার ভাড়া হিসেবে ৪০ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে এবং রিচার্জের সময় বহুবার ভুল হয়, একাধিক ভুলে মিটার লক হয়ে গেলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় প্রভাব: স্বাস্থ্য ও ব্যবসায়িক ক্ষতি
স্থানীয়রা বলছেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা অস্বস্তিতে পড়েছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যও ভোগান্তির সম্মুখীন—বিদ্যুতহীনতায় উৎপাদন ও আয়ের ক্ষতি ঘটছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলা বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর মোট গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার, এ পরিস্থিতির প্রভাব সুস্পষ্টভাবে বৃহৎ সামাজিক পরিসরে পড়ে।
গ্রাহক অভিযোগের প্রধান পয়েন্ট
- মিটার রিডাররা মিটার না দেখে মনগড়া বিল করে দেওয়ার অভিযোগ।
- প্রতি মাসে মিটারের ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও বিল হঠাৎ দ্বিগুণ বা তিন-চার গুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- প্রিপেইড মিটারে মাসিক ৪০ টাকা মিটার ভাড়া কর্তন এবং রিচার্জের বারবার ত্রুটি, মিটার লক হওয়া।
- বিদ্যুৎ অফিসে বারবার অভিযোগ করেও সমাধান না হওয়া।
তথ্য ও দাবি
গ্রাহকরা দাবি করেন—স্বচ্ছ বিলিং, নির্ভুল মিটার রিডিং এবং দ্রুততম অভিযোগ নিষ্পত্তি ছাড়া জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তারা এ অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, অনুচিত বিল বাতিল ও ক্ষতিপূরণসহ কড়াকড়ি কার্যক্রমের আহ্বান জানাচ্ছেন।
| গ্রাহকের নাম (স্থান) | আগের বিল (প্রায়) | বর্তমান বিল/অতিরিক্ত ইউনিট |
|---|---|---|
| মো. আবু হানিফ (ফৈলারঘোনা) | ৩০০–৫০০ টাকা | প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার টাকা; অতিরিক্ত ~৫০০ ইউনিট |
| আবু সাইদ (স্থানীয় ব্যবসায়ী) | প্রতিধারণা অনুযায়ী স্বাভাবিক | অতিরিক্ত ~১২০০ ইউনিট |
পিডিবি ও সম্ভাব্য কারণ
জেলা পিডিবির গ্রাহকসংখ্যা ও পরিচালনার ব্যাপারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এই সংবাদ সংগ্রহের সময় পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণত মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত অভিযোগের পেছনে যে কারণগুলো থাকে—তারা হলার মধ্যে রিডার ত্রুটি, মিটার ফাংশনে সমস্যা, বকেয়া হিসাবের মিশ্রন বা অসদাচরণ। গ্রাহকরা বলছেন, মিটার রিটারদের অনুপ্রবেশমূলক আচরণ ও সম্ভাব্য ঘুষাখোরি থেকেও এই ধরনের মনগড়া বিল হতে পারে।
নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা হিসেবে বিদ্যুৎ সেবার স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা না হলে যথাযথ প্রশাসনিক ও তাত্ত্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ঝরেই উঠবে। গ্রাহক অধিকার ও সেবা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সমস্যাটি আৰ্থ-সামাজিকভাবে আরও বিস্তৃত প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রতিবেদনে স্থানীয় কিছু গ্রাহকের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে; সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও পিডিবি সূত্রের বক্তব্য সংগ্রহ করে পরবর্তী প্রতিবেদনে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হবে।