লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার একটি হত্যা মামলায় জামায়াতের স্থানীয় রুকন আবু বকর ছিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় তিনি চার্জশিটভুক্ত এক আসামি।
আদালতের আদেশ ও আত্মসমর্পণ
সোমবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক সাদেকুর রহমান ওই আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সেলিম নামে একজন ভাড়াটে অভিযুক্ত ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার ও জবানবন্দি দিয়েছেন; আর আবু বকর পলাতক ছিলেন—তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
ঘটনা, অভিযুক্ত ও অভিযোগ
আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তি সালেহা বেগমকে হত্যা করার অভিযোগে আবু বকর ছিদ্দিককে দ্বিতীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায় যে সালেহার সঙ্গে আবু বকরের গোপন বিয়ে হয়; পরে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। জমি কেনার নাম করে আবু বকরের কাছ থেকে সালেহা ৩০ লাখ টাকা নেয়া-নেওয়ার বিষয় জড়িত ছিল। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে জমি না কিনিয়ে আর অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা দাবি করায় তাদের মধ্যে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়।
আদালতে উপস্থাপিত সেলিমের জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ জুন রাতে তিনি সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা টিপে অচেতন করে পরে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরদিন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশ তদন্ত ও গ্রেপ্তার
কমলনগর থানার অনুসন্ধানের পর সেলিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার জবানবন্দি, অন্যান্য বিষয়ে প্রাপ্ত প্রমাণাদি ও অভিযোগের ভিত্তিতে সেলিম ও আবু বকরের নাম উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। বর্তমানে আসামি সেলিম কারাগারে রয়ে গেছেন; আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করায় বিচারিক কার্যক্রমে গতিপ্রকৃতি এসেছে।
“চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন,”
এ বক্তব্যটি বাদীর আইনজীবী আমজাদ হোসাইন আদালতে দেওয়া কাগজে উল্লেখ করেছেন।
পড়শি ও পরিবারিক মর্যাদা ও বিবরণ
ভিকটিমের ছেলে ও অন্যান্য স্বজনরা জানান, অভিযুক্ত আবু বকর ছিদ্দিক জামায়াতের স্থানীয় রাজনীতি করেছেন এবং বাড়তি ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অভিযোগ তুলেছেন; তাদের বক্তব্যে তিনি লম্পট প্রকৃতির এবং বহুবার বিয়ে করেছেন। মামলার বাদী হিসেবে সালেহার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে প্রথমে মামলা করেছিলেন—পরে তদন্তে অভিযুক্তদের নাম জড়ায়।
- তথ্যসূত্র: আদালত, চার্জশিট ও থানা পুলিশ তদন্ত।
- জরুরি তারিখ: ঘটনার রাত ১৫ জুন, মরদেহের উদ্ধার ১৬ জুন, আদালতের শুনানি সাম্প্রতিক।
- অবস্থা: মামলা বিচারাধীন; অভিযুক্ত পলাতক ছিলেন, এখন কারাগারে শিক্ষিত।
স্থানীয় প্রভাব ও উত্তেজনা
কমলনগরে এ ধরনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মামলা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিবার ও প্রতিবেশীরা ঘটনার নেপথ্যে আর্থিক লেনদেন, সম্পর্কের জটিলতা ও সামাজিক বিব্রততার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। স্থানীয়রা এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করছেন।
বিচার কার্যপদ্ধতি ও পরবর্তী ধাপ
আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার ফলে অভিযুক্তকে কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে; তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যবেক্ষণের পরে নির্দিষ্ট অভিযোগপ্রক্রিয়া অনুসারে বিচার চলবে। আদালত যদি প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণের যোগ্য বলে দেখেন, তবে পরবর্তী শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সময় নির্ধারণ করা হবে।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১৫ জুন, ২০২৫ | ঘটনার দিন—সাজায়ীর অভিযোগ অনুযায়ী সালেহাকে হত্যা করা হয় |
| ১৬ জুন, ২০২৫ | মেঘনা নদীর তীরে মরদেহ উদ্ধার |
| সাম্প্রতিক | আবু বকর আত্মসমর্পণ ও জামিন আবেদন; আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ |
এই ধরনের মামলা স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনভিপ্রেত তদারকি দাবি করে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রমাণভিত্তিক দ্রুত বিচার বিষয়টি কমলনগরের জনমনে এখন প্রধান চাহিদা হিসেবে দৃশ্যমান।