মেহেরপুরের প্রধান সরকারি হাসপাতালে আচমকা অনিয়ম ও চিকিৎসক উপস্থিতি যাচাই করতে ঢুকেছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান। বুধবার দুপুরে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে এমপির অনুসারীরা সেখানে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিদর্শনকালে বিভাগটির দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি তার বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় শৌর্যতপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং পরে হাসপাতালের গেটে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ও তৎপরতা
সংগঠিত অভিযোগ অনুযায়ী এমপি হাসপাতালে আসেন বিভিন্ন অনিয়ম, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার উদ্দেশ্যে। তিনি হাসপাতালের নতুন ভবনের প্যাথলজি বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানতে চান যে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঠিকমতো হচ্ছে কি না। এমপি বেলাল হোসেন নামের এক চিকিৎসকের চেম্বারে গেলে তিনি হাজিরা দিয়ে পরে চুয়াডাঙ্গা যান বলে জানতে পারেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও ছুটিতে থাকার খবর পায় এমপি।
প্যাথলজি বিভাগে উত্তেজনা
প্যাথলজি বিভাগে এমপি উপস্থিত থাকা অবস্থায় কয়েকজন বহিরাগত কর্মী কাজ করতে দেখা যায়; একথা জানিয়ে রোগীরাও অভিযোগ করেন বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে বলা হচ্ছে। তখন বিভাগের অনুমানিক ইনচার্জ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাকিবুল ইসলাম তার পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন বলে হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। রাকিবুল নিজে জানান যে, তাঁকে নিয়োগ দিয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম।
"সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন।"
রাকিবুলকে ল্যাব থেকে বের করে দিতে বললে সেখানে এমপির সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের এবং রাকিবুলের সমর্থকদের মধ্যে বাক্যালাপ, বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। উপস্থিতদের অভিযোগ অনুযায়ী এক পর্যায়ে এমপির সাথে থাকা একজনকে ঠক মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর হাসপাতালে বিএনপির এক পক্ষের নেতাকর্মীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়।
পুলিশি হস্তক্ষেপ ও পরিবেশ
ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন। এমপি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে পাশের ওজোপ্যাডিক অফিসে গেলে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের গেটে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। বিকল্প সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত পুলিশও ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে না।
ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ
- ঘটনার স্থান: মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, প্যাথলজি বিভাগ।
- সময় ও তারিখ: বুধবার দুপুরে (স্থানীয় সময়)।
- প্রধান ব্যক্তিরা: এমপি মো. তাজউদ্দিন খান, প্যাথলজি পরিচয়দাতা রাকিবুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম (নির্দেশনামূলক দাবি)।
- প্রতিক্রিয়া: হাসপাতালে উপস্থিতরা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
প্রশাসন ও রোগীর ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা
এই ধরনের উত্তেজনা রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে—বিশেষত পরীক্ষার কার্যক্রম ও জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালের বিভিন্ন সময় চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ আগেও মেলে; এমপির হঠাৎ পরিদর্শন এই সমস্যাগুলো সামনে আনতে সহায়ক হলেও পরিদর্শনকালে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রশাসনিক স্পষ্টতা দরকার।
| বিষয় | উল্লিখিত তথ্য |
|---|---|
| অভিযোগ | চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, বহিরাগতদের কাজ, রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে বলা |
| পরিদর্শকের প্রতিক্রিয়া | চিকিৎসক উপস্থিতি ও পরিচয়পত্র দেখার দাবি |
| পুলিশি পদক্ষেপ | ঘটনা উপরে থানা পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে |
ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এই ধরনের ঘটনার পর রোগীর সেবা নির্বিঘ্ন রাখার পাশাপাশি নিয়োগ-প্রক্রিয়া ও দায়িত্বশীলতার বিষয়গুলো তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ রয়েছে বলেই স্থানীয় নেতারা উল্লেখ করেছেন।
এ পর্যন্ত এ ঘটনার নথিভুক্ত কোনো মামলা বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনায় জড়িত পক্ষগুলোর বক্তব্য ও হাসপাতালের দিক থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে পরবর্তীতে প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।