মেহেরপুর শহরের মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা প্রধান সড়কের পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন বিএটিবি অফিসের সামনে রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং প্রতীকী অনশন করেন। তারা ঠিকাদারি ও আউটসোর্সিং প্রথা বিলুপ্ত করে সরাসরি স্থায়ীকরণ এবং শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানান।
বিক্ষোভের দাবি ও আঞ্চলিক উপস্থিতি
বিক্ষোভে কুষ্টিয়ার চেচুয়া, আল্লার দরগা, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর—মোট চারটি লিফ রিজিয়নের শতাধিক টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফ অংশ নেয়। তারা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে কোম্পানির নীতির বিরুদ্ধে দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার বক্তব্য তুলে ধরে বলেন যে মূলধারার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো—তামাকচাষিদের তালিকা প্রণয়ন, চুক্তি সম্পাদন, বীজ ও সার বিতরণ, মাঠ পর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং কৌশলগত অ্যাপ পরিচালনা—সব কাজগুলোই তারা দীর্ঘদিন ধরে সম্পন্ন করে আসছে, তবু ন্যূনতম চাকরির নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে না।
সংগঠন ও নেতৃত্ব
এই কর্মসূচি 'বিএটিবি ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন' আয়োজিত। সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম ও অন্যান্য নেতারা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, তাদের দাবিসমূহ তৎক্ষণাৎ মেনে নেওয়া না হলে জেলার সব লিফ রিজিয়নে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
লোকাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ঝুঁকি
তামাক চাষ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম মেহেরপুর অঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবারের আয়ের একটি অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই শৃঙ্খলে কাজ করা ফিল্ড টেকনিশিয়ানরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন—বীজ-বিতরণ, সার প্রদানের পরামর্শ ও চুক্তি কার্যকর করা ইত্যাদি। কোম্পানির আউটসোর্সিং প্রথা বজায় থাকলে নিয়মিত আয়ের অনিশ্চয়তা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে গড়াতে পারে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান ও কৃষিজীবিদের আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।
দাবি ও সম্ভাব্য প্রভাব
সমাবেশে নেতারা নিম্নলিখিত প্রধান দাবিগুলো তুলে ধরেন:
- ঠিকাদারি ও আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাতিল করে সরাসরি স্থায়ীকরণ
- শ্রম আইনের আওতায় ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ
- কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা
চাহিদাগুলো পূরণ না হলে আন্দোলন স্থায়ী করার হুঁশিয়ারি কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের প্রতিশ্রুতিভঙ্গ উদীয়মান হলে এলাকায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং মৌসুমি কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে—বিশেষত বীজ-বিতরণ ও মাঠ পর্যবেক্ষণের সময়।
স্থানীয় প্রশাসন ও কোম্পানির দায়বদ্ধতা
এ ধরণের শ্রমবিরোধী ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতা অনিবার্য। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংলাপ করে সমস্যা সমাধান করা গেলে শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। এখনও পর্যন্ত কোম্পানি বা স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সোর্স প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
আরো কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| সমাবেশের সময় | রবিবার, সকাল ১০:৩০ |
| অংশগ্রহণকারী অঞ্চল | কুষ্টিয়া (চেচুয়া, আল্লা দরগা), ঝিনাইদহ এবং মেহেরপুর |
| সংগঠন | বিএটিবি ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন |
কী দেখতে হবে পরবর্তীতে
এই বিক্ষোভের ফলে তিনটি দিক নজরদারির দাবি রাখে—(১) কোম্পানি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও দরবারে বসার প্রস্তাব, (২) স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতা ও কোনো সমাধান চুক্তি ঘটল কি না, এবং (৩) যদি সমাধান না হয়, তবে কর্মসূচি প্রসার করে লিফ রিজিয়নের সব কার্যক্রম বন্ধের বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে কি না।
মেহেরপুর অঞ্চলেও শ্রমবাজারে নিরাপত্তাহীনতা থাকলে তা দলীয় ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কার্যকর উদ্বেগ ও সমাধান না এলে এলাকায় তামাক চাষ ও সরবরাহ শৃঙ্খলেও ঝটকা আসবে—যা কৃষক ও উপশিল্পে কর্মরত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে।
রিপোর্টে উল্লিখিত নেতৃবৃন্দ: কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম, হাসিবুর রহমান, নাজমুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন ও মিলন অংশগ্রহণ করেন। সংগঠন বলেছে—দাবি মানা না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।