মাগুরা সদরসহ জেলার চার উপজেলায় দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো বেওয়ারিশ কুকুরগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে তুলেছে। রাস্তাঘাট, হাটবাজার, বসতবাড়ির উঠান, গলি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কুকুর বিকেন্দ্রীকরণে ব্যর্থতার চিত্র প্রতিদিনই বাড়ছে। এলাকাবাসী বলছেন, বিশেষত পথচলতি শিশু ও নারী-জাতীয়রা নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না।
ঘটনা ও মানবিক প্রভাব
স্থানীয় জনগণের বিবরণে, শ্রীপুরের পূর্ব শ্রীকোল গ্রামে কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার পর চিকিৎসার অভাবে ও পরবর্তীতে সঠিক সেবা না পাওয়ার কারণে ৫৫ বছর বয়সী আমিরুল ইসলাম নামের একজন ব্যক্তি সম্প্রতি মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ওই ঘটনার পর অসময়েই আরও কয়েকজন—বয়সভিত্তিক—আহত হয়েছেন।
| উপজেলা | আহত/মৃত | বয়স (সুত্র অনুযায়ী) |
|---|---|---|
| পূর্ব শ্রীকোল, শ্রীপুর | মৃত: আমিরুল ইসলাম | ৫৫ |
| শ্রীপুর (একই ঘটনায়) | আহত: মান্নান কাজী, সিনথিয়া, জোবায়ের, হযরত, খয়রা বেগম | ৮০, ৭, ৯, ২২, ৬০ (ক্রমে) |
স্থানীয়রা চাইছেন সমন্বিত পদক্ষেপ
আঞ্চলিকরা বলছেন, কেবল ঘরচাপা সতর্কবার্তা বা সীমিত টিকাদান কার্যক্রমই স্থায়ী সমাধান করতে পারবে না। তাদের দাবি—বঞ্চিত এলাকা চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা গ্রহণ, কুকুরের প্রজনন নিয়ন্ত্রণ (বন্ধ্যাত্বকরণ) কার্যক্রম শুরু, নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ ও আক্রান্তদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
- প্রজনন নিয়ন্ত্রণ: বেওয়ারিশ কুকুরদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচি জরুরি।
- টিকা সরবরাহ: নিয়মিত ভ্যাকসিন থাকলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি অনেকটা কমানো যাবে।
- জরুরি চিকিৎসা: কামড়ে আক্রান্তদের কাছে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা এবং জলাতঙ্ক প্রতিষেধক নিশ্চিত করতে হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
মাগুরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মিহির কান্তি বিশ্বাস ঘটনাটির প্রেক্ষিতে বলেন যে, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন আইনত নিষিদ্ধ। তিনি জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, কিন্তু বর্তমানে ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে।
“উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় বেওয়ারিশ কুকুর নিধন আইনত নিষিদ্ধ। তবে আমাদের পক্ষ থেকে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়। বর্তমানে ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। নতুন সরবরাহ পাওয়া মাত্রই টিকাদান অভিযান জোরদার করা হবে।”
অন্যদিকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহসিন উদ্দীন ফকির শহরের পথচারীদের সতর্ক করে বলেছেন, কুকুর কামড়লে দ্রুত ক্ষতস্থলকে প্রবাহমান পানি ও সাবান দিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট ভালোভাবে ধোয়া এবং তার পর কাছে থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক নেওয়া উচিত। সময় নষ্ট না করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সমন্বয় ছাড়া এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ট্রিট-এন্ড-রিলিজ, বন্ধ্যাত্বকরণ, জনসচেতনতা এবং পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ—এই উপাদানগুলো একত্রে না থাকলে পুনরায় একই ধরনের সঙ্কট দেখা দেবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রাথমিকভাবে জরুরি ভ্যাকসিন সরবরাহের মাধ্যমে টিকাদান শুরু হবে এবং দ্রুত গতিতে বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচি চালু করে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাস করা হবে। প্রশাসনিক স্তর থেকে নিয়মিত কউন্ট ও মনিটরিং করলে পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে, সাধারণ নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতাসমূহ:
- কুকুর দেখা মাত্রই শিশু ও দুর্বল ব্যক্তিদের নিরাপদ দূরত্বে রাখুন।
- কুকুর কামড়ে গেলে ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান।
- স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত টিকা ও নম্বর সম্পর্কে জানান—সমগ্র সম্প্রদায়ের জন্য এটি জরুরি।
এই পরিস্থিতিতে মাগুরার নাগরিকরা চান—তারুণ্য থেকে বৃদ্ধ সব স্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া হোক।