বরগুনায় সরকারিভাবে মঞ্জুরীকৃত ২৯৩টি চিকিৎসকপদের বিপরীতে বর্তমানে সরাসরি রোগসেবা দিচ্ছেন মাত্র ৭৭ জন চিকিৎসক। ফলে হাসপাতালে খালি থাকা পদসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৬, যা বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসকের প্রায় তিনগুণ। এ অবস্থা উপকূলীয় জেলার স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন।
শূন্যপদ, অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
বারবার পদায়ন হলেও অনেক চিকিৎসক নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান না করে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে সুবিধাজনক স্থানে বদলি নেন অথবা দীর্ঘ সময় অনুমতি না নিয়ে অনুপস্থিত থাকেন—স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের দাবি এ রকম। নির্দিষ্ট কারণে কর্মস্থল ত্যাগ বা অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে কিছু ক্ষেত্রে বিভাগীয় মামলা ও নোটিশ জারি করা হয়েছে।
- মামলার শিকার বা অনুপস্থিত বলে উল্লেখিত চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন: বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. সিগমা ওয়ালিদ, প্যাথলজিস্ট ডা. শায়ন্তা ঘোষ, বামনা উপজেলার ডা. এস এম সাদিকুর রহমান, আমতলী উপজেলার ডা. ফাইজুর রহমান এবং পাথরঘাটার ডা. মো. রুবাইয়াত আলী।
- বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মাসুদুর রহমান ও বদলিকৃত সহকারী সার্জন ডা. মো. মেহেদী হাসান ও ডা. গোলাম আহমেদ ফাহিমের বিরুদ্ধে নোটিশ ও আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
- পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. মাশফিকুর রহমান ২০২২ সালের জুলাই থেকে অনুপস্থিত; তিনি পরে ইস্তফা দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কণ্ঠস্বর ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
সুশাসনের জন্য নাগরিক বরগুনা জেলা শাখা অভিযোগ করেছে, জেলার স্বাস্থ্যখাতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে নিয়মনীতি উপেক্ষিত হচ্ছে এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নেই। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত পদায়ন হলেও বাস্তবে রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবায় পৌঁছাতে পারছেন না, বিশেষত উপকূলীয় ও দূরবর্তী অঞ্চলে পরিস্থিতি তীব্র।
“পদায়ন শেষে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সুযোগ নেই। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন,”
এ মন্তব্যটি বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহর কাছ থেকে করা হয়েছে। তবে তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কীভাবে কাজ করে এবং সময়োপযোগীভাবে পদক্ষেপ কার্যকর হচ্ছে কি না—এ বিষয়টি স্বচ্ছভাবে দেখার দাবি উঠেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রভাব ও কর্মপ্রক্রিয়ার খসড়া
চিকিৎসক শূন্যপদ ও অনুপস্থিতির ফলে হাসপাতালের ইনডোর-আউটডোর পরিষেবা, জরুরি সেবা, বিশেষ বিভাগ (যেমন কার্ডিওলজি, সার্জারি, প্যাথলজি)—এই সব বিভাগেই ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। রোগীরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসেবা, কনসালটেশন ও অপারেশন পেতে দেরি করছেন বা অন্য জেলাতে যাওয়ার অনিবার্যতা দেখা দিচ্ছে।
| মঞ্জুরীকৃত পদ | বর্তমানে কর্মরত | শূন্যপদের সংখ্যা |
|---|---|---|
| ২৯৩ | ৭৭ | ২১৬ |
শাসনতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে এবং রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে—এমনটাই স্থানীয় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের আশঙ্কা।
পরবর্তী করণীয় এবং দরকারি তথ্য
সরকারি সূত্রে জানা গেছে যে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবেএটা স্পষ্ট করতে হবে যে পদায়ন বা বদলির সময় নিয়ম মেনে কি তদারকি করা হচ্ছে এবং বুধবারি দক্ষতা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে।
নিচে কিছু প্রাসঙ্গিক নির্দেশনাসমূহ উল্লেখ করা হলো, যা রোগী ও স্থানীয়দের জন্য জরুরি প্রেক্ষাপট বহন করে:
- স্থানীয় রোগীরা জরুরি সেবার আগে হাসপাতালের সেবা তালিকা ও ডিউটিভ্যবস্থা যাচাই করবেন।
- যেসব বিভাগের চিকিৎসক অনুপস্থিত—তার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ নম্বর বা বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে জানতে বলুন।
- সুশাসন সংস্থাসমূহ ও সামাজিক পরিবীেক্ষকেরা প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য নিরীক্ষা দাবি ও পরিবেশনা জানানোর কাজ অব্যাহত রাখবেন।
বরগুনার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণহীনতা কীভাবে সমাধান করা হবে, সরকারিভাবে তৎপরতা ও স্থানীয় দাবির সমন্বয়ে তা নির্ভর করবে। রোগী ও স্থানীয়দের জন্য পরিচ্ছন্ন, সময়োপযোগী ও দক্ষ সেবা নিশ্চিত করা হলে জেলার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পুনরুদ্ধার সম্ভব।