বরগুনা জেলার পাকা সড়কগুলোতে বড় ধরনের বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন প্রায় ৫০০ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে পরিণত হওয়ায় যানবাহন চলাচল বাধা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে—স্থানীয়রা এমন অভিযোগ করছেন।
নিম্নমানের সংস্কার ও পানি নিষ্কাশন সমস্যা
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পুনরায় সদ্য সংস্কার না হওয়া, গুণগত মানহীন কাজ এবং অপরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পিচ উঠে গিয়ে বড়-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে যায়, ফলে দুর্ভোগ তীব্র হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে আমতলী-তালতলী-সোনাকাটা সড়কটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ-শিরা হিসেবে বিবেচিত। সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য ৩৮ কিলোমিটার, তার মধ্যে প্রায় ২২ কিলোমিটার অংশের পিচ উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত দেখা দিয়েছে।
দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জেলা সদর, উপজেলা ও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পণ্যবাহী যানবাহন থেকে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও গণপরিবহন—সকলেই প্রভাব পড়েছে। চালকরা জানান, বড় বড় গর্তে ভরা রাস্তা পার হওয়া মানে প্রতিটি যাত্রাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
- ট্রাকচালক আল ইমরান জানান, বড় গর্তে গাড়ি উল্টে যেতে পারে বলে ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়।
- বাসচালক সালাম হোসেন বলেন, বাসস্ট্যান্ড সামনে রাস্তাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ; প্রতিদিন অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা ঘটে।
- আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. দুলাল মিয়া অভিযোগ করেন, এলজিইডি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেন না।
“বছরের পর বছর রাস্তা খানাখন্দ হয়ে পড়ে থাকলেও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় না। কখনো সংস্কার করা হলেও তা দায়সারাভাবে করা হয়।”
এলজিইডির মন্তব্য ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা
এ বিষয়ে এলজিইডি জানিয়েছে, জেলার প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সব সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা বলেছে যে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে সমস্যা অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব হবে—কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় সেই উদ্যোগ সীমিত রয়েছে।
কীভাবে সমস্যার গভীরে যেতে পারে
স্থানীয়দের কথায়, ফাঁকফোকর ভরাট করে পেছনের আরেকটি পর্বীন সংস্কার করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; প্রথমেই পানি নিষ্কাশন ঠিক করতে হবে। ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং জলাবদ্ধতা থাকলে পিচ দ্রুত নষ্ট হয়।
নিম্নলিখিত কিছু বাস্তব উদ্যোগ স্থানীয়দের দাবি ও পরীক্ষিত অভিজ্ঞতার সমন্বয় করে নেওয়া যেতে পারে:
- প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ সুনিশ্চিত করে আশঙ্কাজনক সড়কগুলোতে অগ্রাধিকার দেওয়া
- স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ—খাল/নালার পুনরুদ্ধার ও ঢালাই
- রক্ষণাবেক্ষণে মান নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় পর্যায়ের তদারকি শক্তিশালী করা
অর্থ ও কর্তৃত্বের টানাপোড়েন
রাস্তাঘাট সংস্কারের ব্যয়প্রবণ প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের মধ্যে ফাঁক রয়ে গেলে স্থানীয় জনগণই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে। এলজিইডির কথায়, অর্থ থাকলেই জেলার সব সড়ক একসঙ্গে মেরামত করা যাবে না—কিন্তু স্থানীয়দের ওপর প্রতিটি বছর বারবার পয়লাট করে খননের কাজ কেবল দ্রুততম মেরামত নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অভাব স্পষ্ট করে।
| সড়ক | মোট দৈর্ঘ্য | ক্ষতিগ্রস্ত অংশ |
|---|---|---|
| আমতলী-তালতলী-সোনাকাটা | ৩৮ কিমি | ২২ কিমি |
বরগুনার বিভিন্ন বাজার হয়ে যাওয়া সড়কগুলোরও একই রকম অবস্থা—যা স্থানীয় অর্থনীতি ও শিক্ষালয়, স্বাস্থ্যসেবা অ্যাক্সেসে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন ও তহবিল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সঠিক পরিকল্পনা করে কাজ তুলবে, নয়তো প্রতিটি বর্ষায় এ দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।