পাবনার আটঘরিয়ার মাছপাড়া ইউনিয়নের কুমারগাড়ি বাজারে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক মিনি পেট্রোল পাম্প ও চারটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী আগুনের সূত্রপাত হয় একটি জেনারেটরের স্পার্কিং থেকে এবং দ্রুতই আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনা ও সময়ক্ষেপ
স্থানীয়রা বলছে, তোরাব স্টোরের মিনি পেট্রোল পাম্পে ট্যাংকলরি থেকে তেল আনলোড করার সময় পাইপের সংযোগের সময় স্পার্কিং হয়ে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আটঘরিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইউনিটসমূহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যক্রম পরিচালনা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, ফায়ার সার্ভিস কয়েকটি ইউনিট প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতির বিবরণ
প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উপকরণ ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী:
- মিনি পেট্রোল পাম্প (তোরাব স্টোর) — প্রায় ১৫ লাখ টাকা ক্ষতি।
- মুরগির ওষুধের দোকান (আয়নাল বিশ্বাস) — প্রায় ৬ লাখ টাকা ক্ষতি।
- ওষুধের দোকান (আবুল হোসেন) ও একটি ভুষিমালের দোকান — প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতি।
- মাতৃছায়া তুই ক্যাডেট স্কুল — দ্বিতীয় তলার ক্ষতি প্রায় ৫ লাখ টাকা।
| স্থাপনাসমূহ | প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ |
|---|---|
| মিনি পেট্রোল পাম্প (তোরাব স্টোর) | ১৫,০০,০০০ টাকা (প্রায়) |
| মুরগির ওষুধের দোকান (আয়নাল বিশ্বাস) | ৬,০০,০০০ টাকা (প্রায়) |
| ওষুধের দোকান ও ভুষিমাল | ৫,০০,০০০ টাকা (প্রায়) |
| মাতৃছায়া তুই ক্যাডেট স্কুল (দ্বিতীয় তলা) | ৫,০০,০০০ টাকা (প্রায়) |
| মোট (প্রাথমিক) | ৩১,০০,০০০ টাকা (প্রায়) |
প্রত্যক্ষদর্শী ও মালিকদের বক্তব্য
পশ্চিমবঙ্গীয় স্থানীয়রা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলেন যে আগুনের সময় দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। মিনি পেট্রোল পাম্পের মালিক তোরাব আলী ভূঁইয়া ঘটনার পর এক পর্যায়ে সংবাদমাধ্যমকে অভিযোগ করে বলেন যে তারা কীভাবে তেল আনলোড করল তা পরিষ্কার নয় এবং এতে তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
"আগুনে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। কীভাবে তারা তেল আনলোড করল যে আগুন লেগে গেল। আগুনে আমার অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।"
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রতিবেদন
আটঘরিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিদ্ধান্তকালে চারটি ইউনিট অংশ নেয় এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে আগুন নেভানোর কাজে আনুমানিক এক থেকে দুই ঘণ্টা ব্যয় হয়। আটঘরিয়া থানার ওসি নাজমুল হক জানান, ঘটনায় হতাহতের খবর নেই। তিনি ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র বলে দেন প্রায় ৩১ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও ঝুঁকি
কুমারগাড়ি বাজার ওই এলাকার একটি নড়বড়ে বাণিজ্যিক কেন্দ্র; এখানে ছোট–বড় দোকান ও স্কুল মিলেমিশে রয়েছে। তেলের পাম্পের মত দাহ্য তরল সংবলিত ব্যবসা স্থাপনা যদি নিরাপত্তামূলক নিয়ম মেনে না চলে, তবে আশপাশের স্থাপনার জন্য তা বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ধরনের বাজারাঞ্চলে জরিপ, নিরাপত্তা নির্দেশিকা বাস্তবায়ন ও জরুরি প্রস্তুতির অভাবের প্রতিফলন ঘটতে পারে।
পরবর্তী করণীয় ও অনুসন্ধান
বর্তমানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্ত চলছে; তদন্তে জেনারেটরের স্পার্কিং বা ট্যাংকলরি থেকে তেল আনলোডের প্রক্রিয়া ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত কোনো ব্যক্তি না থাকায় চিকিৎসাসেবা অপরিহার্য হয়নি। তবে বিধি-বিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এজাতীয় ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাস্তবভাবে সহায়তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কি পদক্ষেপ নেবে তা সময়ের সাথে পরিষ্কার হবে।
অতএব, কুমারগাড়ি বাজার ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলা, তেলের লোডিং–আনলোডিংয়ের সময় বিশেষ সতর্কতা, এবং নিয়মিত ফায়ার ড্রিলের ব্যবস্থাকে জোরদার করা জরুরি বলে স্থানীয়রা মনে করেন।