সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, অভিযোগ আছে—স্ত্রীকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতে সেটা করেছিল তিনি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার ও উদ্ধার: কিভাবে ঘটল ঘটনা
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ আগস্ট (সোমবার) গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বেলকুচি উপজেলার খামার উল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোতালেব পরামানিক (৪০)কে আটক করা হয়। অভিযুক্তের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র শিপন মিয়া (১০)কে উদ্ধার করা হয়। শিপনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজিপুর থানা অপহরণ ও উদ্ধার আমলের বিস্তারিত জানায়।
পিতা-মাতার বিবরণ ও অপহরণ-পটভূমি
অপহরণের শিকার শিপনের মা বিথি খাতুন (৩০) জানিয়েছেন, গত রবিবার স্কুলের গেইট থেকে তার ছেলেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় মোতালেব তার মায়ের নম্বরে ফোন করে প্রথমে মুক্তিপণের অর্থ হিসেবে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেন। এর একটু পরে আবার ফোনে বলেছিলেন যে শিপনের মুক্তি দিতে পারলে তিনি তার প্রাক্তন স্ত্রী বিলকিছকে মোতালেবের হাতে তুলে দিতে চাইবেন।
“শিপনকে পেতে হলে প্রথমে সে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে। একটু পরে আবারো ফোন করে শিপনের মুক্তি বিনিময়ে মোতালেব তার প্রাক্তন স্ত্রী বিলকিছকে তার হাতে তুলে দিতে বলেন।”
শিপনের পিতা সবুজ মিয়া (৩৮) অভিযোগ করেছেন, মোতালেব আমার বোনের প্রাক্তন স্বামী; আগে সে জেল খেটে বেরিয়েছে এবং গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আমার বোন তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন। পরে আমার বোন অন্য স্থানে বিয়ে করেছেন, তবুও মোতালেব বসে না থেকে আমার ছেলেকে অপহরণ করেছে বলে পরিবারের দাবি।
পুলিশের কার্যক্রম ও পরবর্তী ব্যবস্থা
কাজিপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, অভিযোগ পেয়ে ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে কীভাবে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে—ওসি জানান, অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আজ তাকে জেলহাজতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- গ্রেফতারকৃত: মোতালেব পরামানিক (৪০) — শাহজাদপুর উপজেলার নবীপুর গ্রামের মৃত ময়দান পরামানিকের ছেলে।
- অপহৃত: শিপন মিয়া (১০) — তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র, স্কুল: ভানুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- অভিযোগমতে দাবি: প্রথমে পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ, পরে মুক্তির বিনিময়ে প্রাক্তন স্ত্রীর হস্তান্তর।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গ্রেফতারকৃত | মোতালেব পরামানিক (৪০) |
| অপহৃত | শিপন মিয়া (১০), তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র |
| অভিযান স্থান | বেলকুচি উপজেলার খামার উল্লাপাড়া |
| অভিযান তারিখ | ১০ আগস্ট (গ্রেফতার) |
পরিবারের বিবরণ ও পুলিশের পরিচয়ের আলোকপাত করলে বোঝা যায়—ঘটনাটি পারিবারিক বিবাদ ও বিচ্ছেদের পর চলমান বিবাদ থেকে উত্থিত। শিপনের পরিবার জানায়, অপহরণকারীর সঙ্গে তাদের পারিবারিক আভ্যন্তরীন সম্পর্কের ইতিহাস আছে, এবং অতীতে ওই ব্যক্তি জেলও খেটেছেন।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
এ ধরনের ঘটনার প্রভাব পড়বে কেবল ওই পরিবারে নয়; একই সঙ্গে স্থানীয় স্কুল-প্রশাসন, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধও বাড়তে পারে। স্কুলের সময় একটি শিশু নিরাপদে বাড়ি না ফেরার ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করার কথা বলছে। এছাড়া পারিবারিক বিচ্ছেদ ও অতীত বিচার-ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের উপর নজরদারি সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা রহস্যজনক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।
কাজিপুর থানার পক্ষ থেকে মামলার আনুষ্ঠানিকতা ও তদন্ত কাজ চলছে—পুলিশ পরিস্থিতি অনুসরণ করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তদন্তে উদ্ধার হওয়া শিশুর সহবাস ও মানসিক অবস্থার বিষয়ও অনুসরণ করতে হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি উঠেছে। কাজিপুর থানা ও জেলা প্রশাসন যদি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেন—স্কুলের অর্থাৎ ছাদের আশপাশে নজরদারি, অভিভাবক-শিক্ষক সমন্বয় এবং ছেলেমেয়েদের নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়পত্রের রেকর্ড—তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন।