সাতক্ষীরায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে শহর বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। আটককৃতদের নাম—কনস্টেবল মোস্তাইন বিল্লাহ ও কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারের পটভূমি ও অভিযানের তথ্য
ডিবি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু এলাকার মধ্যে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির আলাপ-আলোচনা ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা বাইপাস সড়কে তল্লাশি চালিয়ে মোস্তাইন ও নাজমুলকে আটক করেন। তাদের কাছে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করলে ভেতর থেকে ৫৬ বোতল কোরেক্স উদ্ধার করা হয়, যা মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি।
উল্লেখ্য, মোস্তাইন বিল্লাহ সাতক্ষীরা পুলিশের স্পেশাল ফোর্স (এসএফ) শাখায় কর্মরত ছিলেন এবং পূর্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। অন্যদিকে নাজমুল ইসলাম ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটরের কাজ করতেন।
অভিযোগ ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন
গোয়েন্দা তথ্য ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোস্তাইন দীর্ঘ সময় ধরে শহরের সার্কিট হাউস মোড় এলাকায় মাদক সংগ্রহ ও স্থানীয়ভাবে বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রতিবেদন বলছে, সার্কিট হাউস মোড় থেকে কাঁচাবাজার পার হয়ে একটি চা ও ক্যারাম খেলার দোকানে বসে তিনি ইয়াবা, কোরেক্স ও গাঁজা বিক্রি করতেন। ওই ব্যবস্থায় দোকানের মালিক তাইফুর তাকে সহযোগিতা করতেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে অভিযুক্ত বা পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় থানার প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যত ব্যবস্থা
“ডিবির গোয়েন্দা বিভাগ কোরেক্সসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে”—সাতক্ষীরা সদর থানার দায়িত্বে থাকা একটি পুলিশ কর্মকর্তা জানান।”
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, তিনি খবরটি শুনেছেন, তবে এ বিষয়ে ডিবি পক্ষ থেকে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও অবহিত করা হয়নি। অন্যদিকে পুলিশ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তরা সরকারি কর্মকর্তা হলেও নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও জনগণের উদ্বেগ
স্থানীয়রা এ ঘটনার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ঢোকার-প্রতিবেশীরা বলেন, যদি সত্যি পুলিশকর্মীরাই মাদকব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকেন তবে স্থানীয় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলায় বড় ধরণের ক্ষত হবে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কতার ওপর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
- গ্রেপ্তার: কনস্টেবল মোস্তাইন বিল্লাহ, কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম
- উদ্ধারকৃত মালামাল: ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপ
- অভিযোগের স্থান: সার্কিট হাউস মোড়-কাঁচাবাজার পার্শ্ববর্তী একটি চা ও ক্যারাম খেলার দোকান
তদন্তের প্রয়োজনীয়তা ও অনুসন্ধান
ঘটনার তথ্য-প্রমাণ ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিচারাধীন; ফলে তদন্ত কর্মকর্তাদের এখন মূল কাজ হলো—উদ্ধারকৃত কোরেক্সের উৎস নির্ণয়, স্থানীয় নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা এবং অভিযোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত অন্য কারো নাম উদঘাটন করা। পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা-প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থার প্রশ্ন উঠে এসেছে; দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনি প্রক্রিয়ায় ঘটনা তদন্ত সম্পন্ন করা প্রত্যাশা স্থানীয়দের। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।
| আইটেম | বিবরণ |
|---|---|
| গ্রেপ্তারকৃত | কনস্টেবল মোস্তাইন বিল্লাহ, কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম |
| উদ্ধারকৃত কোরেক্স | ৫৬ বোতল |
| অভিযানকারি | জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) |
পরবর্তী সংবাদে তদন্তের অগ্রগতি, আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ ফলাফল প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় গণমাধ্যম হিসেবেই ন্যায্যতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রেখে পাঠকদের জানিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখে এই প্রতিবেদক।