নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি পুকুর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের 것으로 ধারণা করা একটি তাজা বা সক্রিয় গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় দুই যুবক পুকুর থেকে সেটি তুললে প্রথমে থানা কর্তৃপক্ষের কাছে খবর দিলেও থানায় তা গুরুত্ব না নিয়ে ‘‘খেলনা’’ বলার অভিযোগ এসেছে। পরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ঘটনাস্থলে এসে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়।
ঘটনার ধরণ ও সময়কাল
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনা ঘটেছে সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্বাসকান্দর ডাঙ্গাপাড়া এলাকায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দুই যুবক তানভির ও আনসারুল ওই গ্রামের আশির উদ্দিন শাহের পুকুরে গোসল করতে গেলে পা কিছু শক্ত কিছুর সঙ্গে লাগায়। তারা সেটি তুলে দেখলে দেখতে গ্রেনেডের মতো হওয়ায় পলিথিনে মুড়িয়ে পাড়ায় রেখেছিল।
পুকুর থেকে এটি তোলা হলে স্থানীয়রা পরে বিষয়টি সৈয়দপুর থানায় জানায়। তবে তাদের দাবি, থানার কর্মকর্তা প্রথমে সেটিকে খেলনা হিসেবে এড়িয়ে দেন। পরে বিষয়টি র্যাবে জানানো হয়। র্যাব-১৩ নীলফামারীর একটি দল ঘটনাস্থলে মাত্রা পৌঁছে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে এবং পরে রংপুর থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট আনা হয়।
র্যাবের অভিযানের বিবরণ
র্যাব-১৩ নীলফামারীর একটি দল শুক্রবার বিকেল স্থানীয় সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং গ্রেনেডটি উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-১৩ নীলফামারীর স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি এ টি এম তৌহিদুল ইসলাম ও কোম্পানি কমান্ডার আশরাফুল কবির। পরে রংপুর থেকে র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট আসে, যার নেতৃত্বে ছিলেন সার্জেন্ট আব্দুল বারী।
র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল বিকেলের পর গ্রেনেডটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার জন্য কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। র্যাব ও স্থানীয় প্রশাসন পুলিসের সঙ্গে সমন্বয় করে আশপাশের মানুষকে দূরে রাখার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
ঘটনাস্থল ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, গ্রেনেডটি প্রথমে পুকুর পাড়ে পলিথিনে মোড়া অবস্থায় রাখা হয়েছিল। স্থানীয়রা বলছেন, প্রথমে থানায় জানালে তা গুরুত্ব না পেয়ে র্যাবকে অবহিত করা হয়। শ্বাসকান্দর ডাঙ্গাপাড়ায় আশির উদ্দিন শাহের পুকুরটি ওই এলাকায় প্রচলিত গোসলের স্থান; ফলে সেখানে লোকজনের চলাচল ছিল।
- কী পাওয়া গেল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ধারণা করা একটি গ্রেনেড (তাজা/সক্রিয় বলে ধারণা)।
- প্রাথমিক সময়কাল: স্থানীয়রা বলছেন, উদ্ধার ঘটে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে।
- র্যাব-এর উপস্থিতি: শুক্রবার বিকেল র্যাব-১৩ এসে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় কাজ শুরু করে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অ্যাডভাইজরি
অনুরূপ অবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রাসঙ্গিক — যেখানে সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া গেল: (১) সরাসরি ছোঁয়া বা সরানো যাবে না, (২) কাছাকাছি লোকজনকে সরিয়ে দিতে হবে, (৩) স্থানীয় পুলিশ বা র্যাবকে দ্রুত জানাতে হবে, এবং (৪) আশপাশ এলাকা নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ফিরে যাওয়া উচিত নয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | শ্বাসকান্দর ডাঙ্গাপাড়া, বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন, সৈয়দপুর |
| প্রাথমিক আবিষ্কারকারী | তানভির ও আনসারুল (স্থানীয় যুবক) |
| সংশ্লিষ্ট বাহিনী | র্যাব-১৩ এবং রংপুর থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট |
র্যাব ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার প্রকৃত উৎস, গ্রেনেডটির বয়স নির্ণয় ও এটি বিস্ফোরক সামগ্রী হিসেবে কতটা সক্রিয় ছিল—এসব নিয়ে তদন্ত করবেন বলে জানিয়েছে। ইতিহাসগত সময়ের পুরোনো সামরিক সরঞ্জাম কখনো কখনো মাটির নীচে বা পানির নিচে থেকে বেরিয়ে আসে; এমন পরিস্থিতিতে দ্রুতযোগ্যতা ও সতর্কতা অপরিহার্য বলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন।
এ ঘটনাটি জননিরাপত্তার বিষয় হওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। র্যাব এবং স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং ফোনে বা সরাসরি এলাকায় ঘেঁটে বেড়ানো না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা বা আহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য পাওয়া গেলে রিপোর্টে তা যোগ করা হবে।