নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোমনাতি সীমান্ত থেকে ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোবাইল জব্দ করে এক জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক ব্যক্তির নাম মো. লেবু ইসলাম (৫০)। ঘটনাটি ঘটেছে সীমান্ত পিলার নং ৭৮৯/৪-এস-এর কাছাকাছি — স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক চারটার কিছু আগে।
অভিযানের সূত্র ও গ্রেপ্তার
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর গোমনাতি সীমান্ত পুলিশের সদস্যরা গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালান। বিজিবি জানায়, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী পালাতে চেষ্টা করলে টহলদল ধাওয়া করে তাদের একজনকে ধরে ফেলে। আটক লেবু ইসলাম গোমনাতি গ্রামের বাসিন্দা বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে।
জব্দকৃত মালামাল ও মূল্যায়ন
আটক ব্যক্তির দেহতল্লাশি করে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি বাটন মোবাইল ফোন ও একটি সিমকার্ড। বিজিবি তাদের ধার্য করা মূল্য হিসেবে জব্দকৃত মালামালের মোট মূল্য আনুমানিক ৳৪৬,৪০০ নির্ধারণ করেছে।
| বস্তু | পরিমাণ | আনুমানিক মূল্য |
|---|---|---|
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ১৫০ পিস | ৳৪৬,৪০০ (মোট) |
| মোবাইল (বাটন) | ১টি | |
| সিমকার্ড | ১টি |
আইনী প্রক্রিয়া ও অনুসন্ধান
রংপুর ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত যন্ত্রাংশগুলোকে ডোমার থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশি ও সামরিক তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া আরও চারজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তি উল্লেখ করেছে।
সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য তদারকি
স্থানীয় সীমান্ত এলাকা বহুদিন ধরেই মাদক ও অবৈধ পণ্য ব্যবসা নিয়ে সংবেদনশীল। গোমনাতি সীমান্তেও সবসময় সীমান্ত পারাপারের উপায় ব্যবহার করে মাদক সরবরাহের চেষ্টা হয়—বিশেষত এই ধরনের ট্যাবলেটজাত মাদক। বিজিবি নিয়মিত টহল ও গোপন তথ্যভিত্তিক অভিযানে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে।
- অভিযান কর্মসূচি: গোপন সূত্রে তথ্যের ভিত্তিতে টহল ও হঠাৎ অভিযান।
- গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি: মো. লেবু ইসলাম, বয়স ৫০, বাসিন্দা উত্তর গোমনাতি।
- জব্দকৃত মালামাল: ১৫০ পিস ইয়াবা, একটি মোবাইল, একটি সিমকার্ড।
পড়শী ও স্থানীয়দের অনিদ্রা ও উদ্বেগ
সীমান্তশহর ও আশপাশের বাসিন্দারা বলেন, মাদক ব্যবসা রোধে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করলে সাধারণ মানুষ শান্তিতে থাকবে; অন্যদিকে মাদকচক্রের সক্রিয়তা বেড়ে গেলে সামাজিক সমস্যা বাড়ে। যদিও বিজিবি সময়ে সময়ে এই ধরনের অভিযান চালায়, তবু স্থানীয়দের দাবি — রুটিন কার্যক্রমসহ তল্লাশির মাধ্যমে আরও বেশি সতর্কতা জরুরি।
উৎস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালীন সময়ে আটক হওয়া ব্যক্তির সাথে থাকা আরও চারজন পালিয়ে গেছেন; সেগুলো শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিজিবি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ইতিমধ্যেই জব্দকৃত মালামাল ও আটক ব্যক্তিকে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য পুলিশে হস্তান্তর করার কাজ শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ডোমার থানার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর ব্যাটালিয়নের উচ্চতর কর্তৃপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবরণ পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে; তবে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাদের কক্ষে উদ্দেশ্যসূত্রে বিস্তারিত মন্তব্য মেলেনি।
স্থায়ীভাবে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে ও মাদকচক্রকে দুর্বল করতে স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশকে সমন্বিত উদ্যোগ চালাতে হবে—এটাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।