ফরিদপুর: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর এবং সড়ক বিভাগের (সওজ) বিভিন্ন সরকারি জমি থেকে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন বুলডোজার ও মানুষবল ব্যবহার করে গড়ে ওঠা প্রায় ২০০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।
অভিযান ও পরিসর
উচ্ছেদ অভিযানটি ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। শুরু করা হয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের অংশ থেকে। এরপর ভাঙ্গা-ফরিদপুর গোয়ালচামট সড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকা হয়ে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় পর্যন্ত অভিযান সম্প্রসারণ করা হয় এবং সওজ আওতাভূক্ত জমিতেও উচ্ছেদ কাজ চালানো হয়।
কেন অভিযান প্রয়োজন ছিল
প্রশাসন ও স্থানীয়দের কথায়, সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও স্থাপনার ফলে সড়কের প্রকৃত প্রশস্ততা কমে আসছিল। ফলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগী ও সাধারণ পথচারী চলাচলে বাঁধা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়মের ফলে পথচারী-যানবাহনের চলাচল সীমাবদ্ধ হচ্ছিল—এই সমস্যার সমাধানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
“সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং হাসপাতাল এলাকায় মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে,”
উপরোক্ত কথা জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, জনস্বার্থে ভবিতব্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে কোন দফতর অংশ নিয়েছিল
উচ্ছেদকালে প্রশাসনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সড়ক বিভাগ, জেলা পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা। তারা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্থানীয়রাও অভিযানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি শামা ওবায়েদ, সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এবং সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
- অভিযানের সময়কাল: সকাল ১০:৩০ — বিকেল ৩:৩০ (প্রায়)
- উচ্ছেদকৃত স্থাপনার ধরণ: পাকা, আধা-পাকা ও অস্থায়ী দোকানপাট
- অংশ নেয়: জেলা প্রশাসন, সড়ক বিভাগ, জেলা পুলিশ, র্যাব, আনসার
উচ্ছেদ শেষে সড়ক ও হাসপাতাল এলাকার প্রভাব
উচ্ছেদকৃত স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে অতিরিক্ত প্রশস্ততার সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রশাসন বলছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ও আশপাশের এলাকা থেকে ব্যবসায়িক অবকাঠামো সরালে জরুরি যানবাহন ও রোগী-পরিবারের চলাচলে সহায়ক ভূমিকা রাখবে—এটাই উদ্দেশ্য।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| উচ্ছেদকৃত স্থাপনাসংখ্যা | প্রায় ২০০+ |
| অভিযানকারীর নেতৃত্ব | মো. শফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) |
| অংশগ্রহণকারী সংস্থা | জেলা প্রশাসন, সড়ক বিভাগ, জেলা পুলিশ, র্যাব, আনসার |
স্থানীয়দের মতামত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আসপাশের সাধারণ মানুষ ও হাসপাতাল পাড়ের রোগী-পরিবাররাও অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ডেকচি-চাপাশিকার মতো ভোগান্তি চলছিল; উচ্ছেদে তা কিছুটা কমবে। প্রশাসন জানায়, সরকারি জমি ও জনসাধারণের চলাচলের জায়গা পুনরায় সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে অনধিকার প্রবেশ বন্ধে পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হবে।
উচ্ছেদ অভিযানগত ব্যবস্থা হলেও এটি কেবল একবারের উদ্যোগ—এ সমস্যা স্থায়ীভাবে মিটবে কি-না তা ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণে ইশতেহার করবে। হাসপাতাল পাড়ে নিরাপদ ও প্রশস্ত সড়ক গঠনের দাবি多年কাল ধরে ছিল; এবার সেই দাবি বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই অভিযান দেখা হচ্ছে।
বিপ্লব সরকার, ফরিদপুর প্রতিনিধি, WE NEWS