অপরাধ পাবনা পাবনা (23)

পাবনায় মাদ্রাসায় নাবালককে জোরপূর্বক বলাৎকারচেষ্টার অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার

পাবনা সদর উপজেলার একটি জামিয়া মাদ্রাসায় আবাসিক নুরানী শ্রেণীর এক ছেলেকে ঘুম থেকে ডেকে জোরপূর্বক বলাৎকারচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। এলাকাবাসী গতকাল বিক্ষোভ ও মারপিটের ঘটনা ঘটায়।

পাবনায় মাদ্রাসায় নাবালককে জোরপূর্বক বলাৎকারচেষ্টার অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

পাবনার মালিগাছা ইউনিয়নের ভজেন্দ্রপুর গ্রামের জামিয়া ফারুকিয়া মাদ্রাসায় এক আবাসিক নুরানী শ্রেণির ছাত্রকে ঘুম থেকে ডেকে জোরপূর্বক বলাৎকার করার চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক আক্তারুজ্জামান-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় বিক্ষোভ-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং জনগণ অভিযুক্তকে মারপিট করার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে মামলা করেছে।

অভিযোগ ও ক্রোনোপল

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ অনুযায়ী গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ২টায় মাদ্রাসার টিনশেড একতলা কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা ওই ছাত্রকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামী ওই কক্ষে কাপড়ের পর্দা দিয়ে ঘিরে জোরপূর্বক বলাৎকার করার চেষ্টা করেন এবং নাবালক বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বাধা প্রদান করেন। ভুক্তভোগি ছেলেটি পরে বিষয়টি শিক্ষকদের কাছে জানালে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

  • তারপর ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিকেলে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করে।
  • উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে মারপিট করে এবং পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে হেফাজতে নেয়।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ভুক্তভোগির মা ২৫ সেপ্টেম্বর পাবনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে (ধারা ৯ (খ)) মামলা দায়ের করেন।

পুলিশি ব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

পাবনা সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে অভিযুক্ত মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত এবং ভুক্তভোগি ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র।

"আমি এই নরপশুর ন্যায় বিচার চাই। এমন বিচার চাই যাতে আর কোন মাদ্রাসা শিক্ষক এমন ঘটনা না ঘটানোর সাহস পায়।"

ভুক্তভোগির পিতা-পিতামাতা ও প্রতিবেশীরা অভিযুক্তকের দ্রুত এবং কঠোর বিচার দাবি করেছেন। সূত্রগুলোতে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও অশ্লীল আচরণ ও অশালীন অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন, যা অভিযোগে ফের প্রকাশ পেয়েছে।

প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব

ঘটনাটি একদিকে শিশু অধিকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও অভিভাবক-সমাজের আস্থা বিষয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মাদ্রাসা-মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

তারিখ ঘটনা
২৪ সেপ্টেম্বর (রাত) ভুক্তভোগি ছাত্রকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে বলাৎকারচেষ্টা করা হয় বলেই অভিযোগ
২৪ সেপ্টেম্বর (বিকেল) স্থানীয়রা মাদ্রাসায় বিক্ষোভ ও অভিযুক্তের ওপর হামলা
২৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগির মা থানায় মামলা করেন; পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে—যদিও বিস্তারিত তদন্ত ও বিচার কিভাবে এগোবে তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

এ ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন দিক থেকে প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও কী ধরনের তদারকি কিংবা অভিভাবক-সচেতনতা প্রয়োজন, এবং এমন ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে কি ধরণের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। অভিযোগের স্বরূপ নির্ভুল অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুতর।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

23পাবনা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো পাবনা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব