পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের পাশের একটি ডোবা থেকে সোমবার নয়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশুর নাম কামরুন নাহার কলি, তিনি ওই গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে।
ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ
পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, কলি গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায়। বাজার শেষে বাড়িতে ফিরে তারা বাজারের ব্যাগটি মায়ের কাছে দিয়ে বাড়ির পাশে দাঁড়ায়। এরপর সন্ধ্যার পরে কলি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
খোঁজাখুঁজি করার এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কলির ব্যবহৃত স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তারা শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি এবং শিশুর বাবা আগের দিনই পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভ
ধারণা করা হয়েছিল শিশুটিকে কিডন্যাপ করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কলির স্বজন এবং সহপাঠীরা পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশি কাজ
বিক্ষোভের পরদিন স্থানীয়রা বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পান এবং খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানিয়েছেন, মরদেহ কাকে চেনা গেছে—পরিবারের সদস্যরা নিজে শনাক্ত করেছেন। পুলিশ বলেছে যে কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
- নিখোঁজ: ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে
- বিক্ষোভ ও মানববন্ধন: ১৫ সেপ্টেম্বর, স্বজন ও সহপাঠীরা
- মরদেহ উদ্ধার: ১৬ সেপ্টেম্বর, বাড়ির পাশের ডোবা থেকে
- মরদেহ পাঠানো হয়েছে: পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য
পুলিশি তদন্তের দিকনির্দেশনা
পাবনা সদর থানা ঘটনা তদন্ত করছে—ওসি জানান যে হত্যার কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের সনাক্তকরণে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও মোবাইল ডাটা সহ প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে, জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের দাবি ও ক্ষোভ
কলির বাবা কামাল প্রামাণিক অভিযোগ করেছেন পরিবারগত ও কমিউনিটির কাছে কলির খোঁজও চাওয়া হয়েছিল, তবুও শিশুটির এহেন বাস্তবতা সামনে এসেছে; তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি করেছেন। স্থানীয়রা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছেন এবং শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
পাশের সম্প্রদায় ও শিশু সুরক্ষা
একটি কমিউনিটিতে শিশু নিখোঁজ ও পরে খণ্ডিত মরদেহ পাওয়া গেলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও সন্দেহ দেখা দেয়—বিশেষত পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জন্য। ঘটনার তদন্ত থেকে উঠে আসা তথ্যই পথ দেখাবে কমিউনিটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় দুর্বল ছিল এবং ভবিষ্যতে কেমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সম্ভাব্য প্রভাব ও পরবর্তী ধাপ
পুলিশ ময়নাতদন্তের ফল ও ফরেনসিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মূললক্ষ্যভিত্তিকভাবে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করবে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এমন ঘটনায় দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা—যাতে ন্যায় নিশ্চিত হয় এবং পুনরাবৃত্তি রুখে দেয়া যায়।
এদিকে, পরিবারের অনুরোধ ও স্থানীয় চাপে তদন্ত ত্বরান্বিত করা হলে দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তি এবং অভিযুক্ত শনাক্তকরণ কঠোর অনুশোচনার ভিত্তিতে হবে বলে পুলিশ সূত্রে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।