নগরের কলুনিয়া এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ
পাবনা সদরের দোগাছী ইউনিয়নের কলুনিয়া গ্রামের ১০ বছর বয়সি কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পার হলেও এখনো তার সন্ধান মেলেনি। পরিবার ও এলাকার মানুষজন উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পাবনা শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় এবং এর পর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার ক্রমবিকাশ
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কলি তার বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায়। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরে বাজারের ব্যাগটি মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে যায় সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও সে বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) | সন্ধ্যায় শ্রীপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর বাড়ির পাশে থেকে নিখোঁজ |
| পরবর্তীকালে | বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কলির স্যান্ডেল পাওয়া যায়; সাধারণ ডায়েরি দাখিল |
| ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) | পাবনা শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ; জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি |
পরিবার ও পুলিশের বক্তব্য
শিশুটির বাবা কামাল প্রামানিক জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিট-এর দিকে তার মেয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেছে, আত্মীয়-পরিজন এবং আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। স্থানীয়রা চেয়ারম্যান, গ্রামবাসী ও আত্মীয়দের সহায়তায় খোঁজ চালাচ্ছেন এবং কেউ শিশুটির সন্ধান পেলে দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
“পাঁচ দিন ধরে একটি শিশু নিখোঁজ থাকায় পরিবারসহ পুরো এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন। দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি।”
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং শিশুটির সন্ধানে প্রয়োজনীয় আইনগত ও তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সূত্র বলছে, নিখোঁজের ঘটনার পর বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং পুলিশ খোঁজাখুঁজি চালাচ্ছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও দাবি
কলুনিয়া এলাকার সাধারণ মানুষ মঙ্গলবার শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, শিশু-নিরাপত্তা এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমে প্রশাসনের সক্রিয়তা জরুরি। স্মারকলিপিতে একই ধরনের অনুরোধ এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার নির্দেশনার আবেদন করা হয়েছে।
পরবর্তী করণীয় এবং পরিবেশগত প্রভাব
নিচে বিষয়টির তাত্পর্য ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের জন্য স্থানীয়ভাবে যেসব কার্যক্রম প্রয়োজন হতে পারে সেগুলো তুলে ধরা হলো:
- তৎক্ষণাৎ নির্দিষ্ট এলাকা ও রাস্তা-ঘাটে কাঠামোগত খোঁজ: পরিবারের সঙ্গে সমন্বয়ে আশপাশের খালের ধারে, কুনোস্থানে অনুসন্ধান।
- প্রশাসন ও পুলিশি তদারকি: ঘটনাস্থল ও সময়ের স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ।
- সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ: আশেপাশের স্কুল, বাজার ও গণপরিবহণে ত্বরিত সতর্কতা ও খোঁজার বিজ্ঞপ্তি জারি করা।
স্থানীয়দের উদ্বেগ এবং পুলিশ জানানো কড়া তদন্তের অবস্থা বিবেচনায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে শিশুটি উদ্ধারের জন্য পরিবার, বারোয়ারি ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। পাবনার মানুষের নিরাপত্তা ও শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব—এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী।