নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এর ক্যাম্পাসের দুইটি পুরনো পরিত্যক্ত ভবন সম্প্রতি মাদকসেবীদের আড্ডা ও মাদকসেবনের স্থানে পরিণত হওয়ায় বিদ্যালয়ের পাঠপরিবেশে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক দায়ের করা থানায় লিখিত অভিযোগে এ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
পুরোনো ভবনগুলো কেন ঝুঁকিপূর্ণ
বিদ্যালয় কহতে যায় যে, এই দুটি পুরাতন পাকা ভবন ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এবং বর্তমানে জরাজীর্ণ। ভবন দুটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় সেগুলো শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার উপযোগী নয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এসব ভবন খালি পড়ে থাকতে থাকে এবং বাইরের অনিবাসী ব্যক্তিরা সেখানে অনায়াসেই প্রবেশ করে মাদকসেবার জন্য আড্ডা গড়ে তুলেছে।
বিদ্যালয়ের শংকা ও অভিযোগ
বিদ্যালয়ের শংকা অনুযায়ী মাদকসেবীরা কেবল ভবনের ভেতরে মাদকসেবন করছে না, সেখানে তারা শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর ভীতি-ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। ফলে দিনের মধ্যে মাঠ বা ক্যাম্পাসে সরব চলাফেরা করার সময় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ভোগছে এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগে উল্লেখ আছে যে, বিদ্যালয়টি ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং এতে বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত আছে ১৬ জন শিক্ষক ও কর্মচারী। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক পরীক্ষার ফলও সাধারণত সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় অভিযোগ ও পুলিশি পদক্ষেপ
অবস্থার ভীষণতা বিবেচনায় নিয়ে আজ (৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দপুর থানায় লিখিতভাবে একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পরে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজন মাদকসেবীকে আটক করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বলেছেন, "অভিযোগ পেয়েই সেখানে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।"
কীভাবে ক্ষতির পরিধি বোঝা যায়
বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই মাদকসেবীদের উপস্থিতি চলমান থাকলে শিক্ষার পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে—শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা ক্ষুন্ন হয়, অনুশাসন বিঘ্নিত হয় এবং অভিভাবকরা সন্তানের স্কুল পাঠাতে অনীহা প্রদর্শন করতে পারেন। স্থানীয় সমাজেও স্কুলটি একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি হারাতে পারে।
- প্রধান সমস্যা: পুরাতন দুই ভবন মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হওয়া।
- অভিনেতা: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
- পুলিশি ব্যবস্থা: অভিযানে দুইজন আটক; আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
তথ্যসূচক সারণি
| বিভাগ | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠাকাল | ১৯৬৩ |
| শ্রেণি | ষষ্ঠ থেকে দশম |
| প্রায় শিক্ষার্থী | ৫০০ |
| শিক্ষক ও কর্মচারী | ১৬ |
| আটক | ২ |
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের করণীয়
এই ধরনের সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণের দুর্নির্মিত ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলো দ্রুত সংস্কার বা অধুনা নিরাপদ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অভিভাবকরা যদি উদ্বিগ্ন হন, তারা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাথে বৈঠক করে পরিস্থিতির বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে পারেন এবং পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানোর অনুরোধ করতে পারেন।
স্থানীয়ভাবে যে পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে তা হলো:
- ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দুটি সিল করে দেওয়া অথবা নির্মাণশৈলী সংস্কার করে জনবান্ধব ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- নিয়মিত পুলিশি টহল ও বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
- বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদকবিরোধী কর্মসূচি পরিচালনা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে শিক্ষার মানেই সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। এখনই তৎপরতা না নিলে ভবিষ্যতে আরও জটিল সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।