নীলফামারীর সদর উপজেলার পঞ্জপুকুর ইউনিয়নের জামতলা এলাকার ৬০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মমিনুর রহমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তাঁর কয়েকজন পারিবারিক সদস্য। ব্যাপারটি রোববার রাতেই সদর থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
থানায় দায়ের করা এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনা ঘটেছে গত ২৯ আগস্ট দুপুরে। অভিযোগ: অভিযুক্তরা নিজেদের বাড়ির টয়লেটের ঢাকনা খুলে রাখায় দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং তা নিয়ে নিহত নয়, আহত ব্যক্তি মমিনুর রহমান বাড়ির অন্যত্র অসুবিধা অনুভব করেন। মমিনুর ঢাকনা বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ করলে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর বাক্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে মমিনুরের ওপর আক্রমণ চালায় এবং তাঁকে গুরুতর জখম করে।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় দলের নেতা ও অভিযোগের প্রধান অভিযুক্ত হলেন পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সুমন রানা (৩১)। এ ছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সুমন রানার স্ত্রী মনুফা বেগম (২৮), মো. জাহিদুল হক (৫৫) ও তাঁর ছেলে নিপ্পন হক (২৬)। ঘটনার পর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মমিনুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
আহত ও পরিবারিক দাবি
ভুক্তভোগী মমিনুর বর্তমানে শহরের একটি হাসপাতালের বিছানায় ভর্তি রয়েছেন। সংবাদ সূত্রে জানা যায়, তিনি হাসপাতালেই তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন এবং চিকিৎসাধীন। মমিনুরের ছেলে মিলন মিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
“আমার বাবা একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। তাঁরা টয়লেটের ঢাকনা খুলে দিলে আমরা গন্ধে থাকতে পারি না। আমার বাবা সেটি বন্ধ করতে বলায় তাঁরা আমার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছেন। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”
পুলিশের পদক্ষেপ
সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহিন বিষয়টি রোববার রাতে নিশ্চিত করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেছেন, এ ঘটনায় এজাহার পেয়েছি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে থানায় এজাহারভিত্তিক অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে; তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন ওসি।
স্থানীয় পরিবেশ ও রাজনৈতিক বিধ্বস্তকরণ
ঘটনাস্থল ও অভিযুক্তদের পরিচিতি বিবেচনায় এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। অভিযোগে নাম হিসেবে যাঁরা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতা হওয়ায় ক্ষেত্রটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিংবদন্তিভিত্তিক কোনো বক্তব্য না দিয়েই জনগণ দ্রুত ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা করছে।
প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রশ্ন
এই ধরনের কোনও ঘটনাই শহরের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে দুর্বল ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ সমাজের নৈতিক দায়বদ্ধতা ও প্রশাসনিক তৎপরতার ওপর প্রশ্ন তোলে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
- আহত: মমিনুর রহমান (৬০), প্রতিবন্ধী
- তারিখ: অভিযোগ সূত্রে ২৯ আগস্ট
- অভিযুক্ত: সুমন রানা (৩১), মনুফা বেগম (২৮), মো. জাহিদুল হক (৫৫), নিপ্পন হক (২৬)
- প্রতিবেদন: সদর থানা, এজাহার দায়ের ও তদন্ত চলছে
| নাম | বয়স | সম্পর্ক/পদ |
|---|---|---|
| সুমন রানা | ৩১ | পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি (অভিযুক্ত) |
| মনুফা বেগম | ২৮ | সুমন রানার স্ত্রী (অভিযুক্ত) |
| মো. জাহিদুল হক | ৫৫ | অভিযুক্ত |
| নিপ্পন হক | ২৬ | জাহিদুল হকের ছেলে (অভিযুক্ত) |
রিপোর্ট করা পর্যন্ত ঘটনার স্বাধীন ও গভীর তদন্তের জন্য পুলিশের কার্যক্রমে স্থানীয়রা নজর রাখছে। আহত মমিনুরের দ্রুত চিকিৎসা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা না হলে স্থানীয় সম্প্রদায়ের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সংশয় রয়েছে।
ওসি জানান, তদন্তধারা সম্প্রসারণ করা হলে অ্যাডিশনাল আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং অপরিহার্য ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও চার্জশিট দাখিল করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি তদন্তে যে কোনো নতুন তথ্য জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়েছে।