মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনকারী বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন। এতে শিক্ষার্থীরা এমতাবস্থায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ আগস্ট বিকেলে ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় জবি শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনকারী একটি বাসের সাথে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ঘটে। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে কাওসার। পরে কাওসার ওই বাসটিকে অনুসরণ করে সিংগাইর উপজেলার ভূমদক্ষিণ এলাকায় পৌঁছে বাসের গতিরোধ করেন এবং তিনি ও আরও ৩-৪ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বাসের দুই পাশে থাকা কাঁচ ভাঙচুর করেন।
ভাঙা কাঁচের আঘাতে তিন শিক্ষার্থী—পূর্ণিমা (২১), আখি আক্তার (২১) ও রিনভি (১৯) আহত হন। হামলা ঠেকাতে গিয়ে বাসচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং ছাত্র উদয় চক্রবর্তীসহ আরও কয়েকজনও আহত হন। ঘটনাস্থলে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশি পদক্ষেপ
পরে বাসচালক বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে একজনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০-১২ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪ ও ৩২৭ ধারায় ধার্য করা হয়েছে। পুলিশ বার্তায় বলা হয়েছে, মামলার প্রধান আসামি কাওসার পলাতক রয়েছেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেছেন, “শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও দাবিসম্ভার
ঘটনার পর বিকেলেই প্রায় ২২০-২৫০ শিক্ষার্থী উপজেলা ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল ও মানববন্ধন করে এবং পরে সিংগাইর থানায় অবস্থান নেন। তারা দাবি করেন—হামলাকারীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পেলে আবারও নিরাপত্তাহীনতাজনিত ঘটনা ঘটতে পারে।
- শিক্ষার্থীদের দাবি: দ্রুত ও নিষ্ঠার সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা।
- উপাচার্যের দাবি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- পুলিশ বলছে: তদন্ত চলছে; মামলায় অভিযোগ হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্ত পলাতক।
স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানায় বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার সময় | ১১ আগস্ট বিকেল |
| আহত | পূর্ণিমা (২১), আখি আক্তার (২১), রিনভি (১৯), চালক মো. সাজ্জাদ হোসেন ও আরও কয়েকজন |
| মামলায় ধার্য ধারাসমূহ | ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৭ |
ঘটনাটি স্থানীয় শান্তি ও শিক্ষাবৃত্তির দিকে প্রভাব ফেলতে পারে—এজন্য দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনি উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত কাজ করা হবে এবং পলাতক অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান জোরদার করা হবে।
মানিকগঞ্জবাসী ও সংশ্লিষ্টরা এখন দেখচ্ছেন—নিরাপত্তা ব্যবস্থা কত দ্রুত পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা যায় এবং স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কালীন পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে কি না।