মাগুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডাদেশকে কেন্দ্র করে দে th ঘরণে আজ (১১ আগস্ট) হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের অগ্রাধিকারভিত্তিক শুনানি শুরু হয়েছে। বিষয়টি বিচার করার জন্য গঠন করা বেঞ্চে ছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা।
রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থিতি ও মামলার প্রযুক্তি
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক, তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেলরা—রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি। এই মামলাটি ট্রাইব্যুনাল থেকে ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আপিল ও ডেথ রেফারেন্সকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক বিচার করার কারণে আজই শুনানি শুরু করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায় ও মামলার সময়রেখা
মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান ২০২৫ সালের ১৭ মে মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। রায়ে বাকী তিন আসামিকে খালাস করে দেওয়া হয়েছিল। পরে মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের মার্চ মাসের শুরুতে—নিজনান্দুয়ালী গ্রামের একটি বাড়িতে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ওই শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতাল নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করার পর ১৩ মার্চ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
বিচারপন্থা ও বিশেষ বেঞ্চ গঠন
দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার পর বিচার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চালানোর উদ্দেশ্যে, ২০২৬ সালের ১০ জুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন যা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল বিশেষ অগ্রাধিকারে দেখবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বিশেষ বেঞ্চে মামলাগুলো পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের এক দলও গঠন করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের দল ও দায়িত্বশীলতা
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে গঠিত দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। দলের অন্যান্য সদস্য ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা—মাহবুবা তাসনিম আঁখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী।
স্থানীয় প্রভাব ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
মামলাটি মাগুরা জেলা সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শিশু নির্ভর নিরাপত্তা ও পরিবার-সম্পর্কিত ভ্রমণকালে অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা স্থানীয়রা বারবার বলেন। ঘটনাটি নিয়ে ক্ষত অবস্থায় থাকা পরিবার ও স্থানীয়রা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। বর্তমানে আদালতের যে অগ্রাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত স্পষ্টতা ও সিদ্ধান্ত এনে দিতে পারে বলে আশার কথা আদালত-আইন বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
প্রক্রিয়া ও পরবর্তী দিনগুলোর ব্যপারে
ডেথ রেফারেন্স শুনানির ফলে ট্রাইব্যুনালের রায়কে হাইকোর্ট খতিয়ে দেখবে; হাইকোর্ট রায় বহাল, পরিবর্তন বা পুনর্বিচারের নির্দেশ দিতে পারে। এছাড়া হাইকোর্টে থাকাকালীন আপিলও বিবেচনায় নেওয়া হবে, যা রায়ের কার্যনির্বাহ, শাস্তি কার্যকরীকরণ ও সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আইনগত পরামর্শ ও জনসচেতনতা
এ ধরনের মামলা সম্বন্ধে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা, গোপন তথ্য জনস্বার্থে জানানো ও আইনগত পরামর্শপ্রাপ্তির ব্যবস্থা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও সংবেদনশীল তদন্ত চালাতে বলা হয়—বিশেষত শিশু-জড়িত মামলা হলে চিকিৎসা, যত্ন ও সাক্ষ্যসংরক্ষণ প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা প্রয়োজন।
| ঘটনা | তারিখ / বিষয় |
|---|---|
| ঘটনার সময় | ২০২৫ সালের মার্চ (শুরু) |
| মৃত্যু | ১৩ মার্চ, ২০২৫ (চিকিৎসাধীন অবস্থায়) |
| ট্রাইব্যুনাল রায় | ১৭ মে, ২০২৫ (মৃত্যুদণ্ড, আসামি: হিটু শেখ) |
| হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শুরু | ১১ আগস্ট, ২০২৬ |
- মামলার প্রধান আসামি: হিটু শেখ (ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)
- রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেছেন: ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক ও সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেলরা
- বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত: ১০ জুন, ২০২৬ (প্রধান বিচারপতির আদেশ)
মামলার ওপর পরবর্তী শোনা এবং হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আদালত থেকে যে কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশ বা দিন ধার্য করলে তা নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।