মাগুরা শহরের বেবী প্লাজা মার্কেটে একরাতে ছয়টি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গতকাল রাতের লোডশেডিং ও সরকারি নির্দেশনায় রাত আটটার দিকে দোকান বন্ধ করার পর সকালে দোকান খোলার সময় এ চুরির ঘটনা নজরে আসে। তারা বলছেন, শাটারের নিচ দিয়ে বাঁশ ঢুকে বিশেষ কৌশলে চোরেরা দোকানে প্রবেশ করে ও ক্যাশ কাউন্টারে রাখা টাকা নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ ও সন্দেহ
বেবী প্লাজার ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, চুরিতে মোটানুমানিক পাঁচ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা অনুযায়ী, ঘন লোডশেডিং থাকার কারণে মার্কেটের সিসিটিভি ক্যামেরায় কোনো কার্যকর দৃশ্য ধারণ হয়নি। এছাড়া ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, মার্কেটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় নির্মাণাধীন অংশের পাশের গাছ বেয়ে চোরেরা ওপরে উঠে থাকতে পারে এবং সেখানে মাদক সেবনের কিছু আলামতও পাওয়া গেছে।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও আশ্বাস
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মাগুরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরফান আহমেদ। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বেবী প্লাজা পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” — এসআই আরফান আহমেদ
অন্য জায়গায় ঘটে থাকা অনুরূপ ঘটনা
একই রাতে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে পাইকারি শিমুল স্টোর নামের একটি দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটেছে; সেখানে ভেতরে ঢুকতে টিন কেটে নেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের বড়খড়ি গ্রামের ড্রিম মাশরুম সেন্টারেও এদিন রাতে একই ধাঁচের চুরি হয়েছে; সেখানে মূলত এডজাস্টার ফ্যানের মোটরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে।
- বেবী প্লাজা মার্কেট — ছয়টি দোকান, মোট ক্ষতি দাবি প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বেশি।
- শিমুল স্টোর (চৌরঙ্গী মোড়) — টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চুরি।
- ড্রিম মাশরুম সেন্টার (বড়খড়ি) — মাশরুম উৎপাদন ও গবেষণায় ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ চুরি, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রভাবের আশঙ্কা।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রশাসনিক চাহিদা
বেবী প্লাজা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ড্রিম মাশরুম সেন্টারের মালিকও আশপাশে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের আড্ডা ও অপরিচিতদের অস্বাভাবিক চলাচল নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে মাশরুম চাষ, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
| স্থান | ঘটনার ধরন | দাবিকৃত ক্ষতি / নোট |
|---|---|---|
| বেবী প্লাজা মার্কেট | শাটারের নিচ দিয়ে প্রবেশ করে ক্যাশ কাউন্টারের টাকা চুরি | ছয়টি দোকান, মোট ক্ষতি দাবি ≈ পাঁচ লাখ টাকার বেশি |
| শিমুল স্টোর (চৌরঙ্গী মোড়) | টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ ও চুরি | নির্দিষ্ট ক্ষতির পরিমাণ প্রতিবেদনে নাই |
| ড্রিম মাশরুম সেন্টার (বড়খড়ি) | মোটর ও যন্ত্রাংশ চুরি | প্রতিষ্ঠান কার্যক্রমে প্রভাবের আশঙ্কা |
স্থানীয়রা বলছেন, নাইটগার্ডের কাজের গতিবিধি ও রুটিন, সিসিটিভি কার্যকারিতা এবং নির্মাণাধীন অংশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে খতিয়ে দেখা জরুরি। কার্যকর ডিজিটাল নজরদারি ও নিয়মিত পুলিশ টহল ব্যবস্থা না থাকলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, এমনই স্থানীয় পর্যায়ের উদ্বেগ।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার বা কোনো অভিযুক্ত শনাক্ত হয়েছে কি না সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ীরা দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশায় রয়েছেন।